বিকাশ চন্দ’র দু’টি কবিতা
ভূমা
অঘোষিত সময়ে অযথা অজানা ক্রোধের উচ্ছ্বাস
দু’টো চোখেই দেখি অতল জলের রেখা,
প্রয়াসী চুম্বন ঠোঁট শোনে বেহাগের সুর
শুধুই চিহ্ন অন্তর্ভেদি সিঁথি রাঙা সিঁদুর
কখনো বা পূর্ণ ঢাকা মুখে অযাচিত হাসির রেখা।
অনন্ত সবুজ গাছের নীচে সুখ জাগানিয়া ফুল---
পাখিদের নানান ডাকে ভালোবাসা আকুল,
বুকের পাঁজরে দলা পাকায় খোঁজে উষ্ণ সরসী ---
নিজের ভেতরে স্বেচ্ছাচার অভিলাষ বনগন্ধী প্রবাস
ফুলে ফুলে কোঁচড় ভরেছে তোমার বুকে দেদোল চন্দ্রহার।
কেন জল ডাকে স্রোতের ভেতর জীবন পরবাস---
কেন শরীরে রক্ত শির শির বোঝেনি কি দরদিয়া,
দরিয়া কুলে থমকে থাকা নৌকো বাঁধা শূন্য বুকে---
কথার ভেতর ভাষাময় স্বপ্নেরা প্রজাপতি রঙে ওড়ে
পাখি ফুল ধূলো বালি মাটি খুঁজি শুধু জীবনের কণা।
আনন্দ বিহার জমি আর জলে লাঙ্গলের সীতা পথ
সবুজে লালনে ভরে ওঠে জননী ভূমার শরীরী আত্মা,
শ্রান্ত শরীর টেনে বাড়ি ফেরা সকল দরজা খোলে মায়া---
বোঝেনা মৃত্যু কাল কত ক্ষয় জানেনা রিক্ত হাহাকার,
কত অশ্রু ঢালো তুমি এখনও দুঃখ জমে চোখের কাজলে।
সহজাত সংলাপ
সূর্যের ভেতরে কোন রঙ নেই ছায়া তবু কালো---
প্রবাহের অনুকূলে হেঁটে কতবার উত্তাল বনস্থলী,
উজাড় শরীরেও রক্তপায়ী ক্ষত চিহ্ন জলপাই রঙ পুরুষ---
কাল কথা বলে ছিল বিভোর শরীর ভেঙে ছিল শুকনো পাতা
সবুজ ছায়ারা দেখে ছিল দোদুল্যমান আরো এক প্রচ্ছায়া,
ছায়াদেরও কথা ভেসে ছিল বন্য বাতাসে এসো দুটো ফুল হয়ে বাঁচি ।
শত চ্ছিন্ন সংসার জীর্ণ খড়ো ঘর হেসে ওঠে আলো চতুর্দশী চাঁদ,
আবরণ হীন জীবন দেখে ছিল আশ্চর্য পারিজাত ফুল---
গত কাল রাত টলটল সরোবর চোখে খেলেছিল জোছনা,
অগোচরে নিজস্ব আশ্রয় পুড়ে ছিল হঠাৎ আগুন রোষে----
পোড়ো ভিটেতে ত্রিপল ছাউনি তাতে জোড়া শালিকের নাচ
শ্বাসরুদ্ধ ভয় আবারও মিছিলের বীভৎসতা কেড়ে নেয় আশ্রয়।
যত টুকু পোড়া ঘরের ত্রাণ নিয়ে গেল মুখ বাঁধা বাবু লোক সব---
বুকের ভেতরে যত ক্ষত ছাই চাপা জ্বলে ওঠে আগুন রাঙা শোক,
প্রতি রাত জানে দুর্বিনীত সময়ের অভিশাপ সকল দীর্ঘশ্বাসে---
ভিতের গহ্বরে সোনা রূপো খুঁজে নেয় অবতার জন্ম ভিটে,
অবোধ সময় কাল জানে গভীর নীলে নিরুদ্দেশ পাদুকা কথা---
সহজাত সংলাপ ছুঁয়ে যাবে প্রাণে প্রাণ মানুষের কথা গানে।
বিকাশ চন্দ,
কাঁথি, পূর্ব মেদিনীপুর।
পশ্চিম বঙ্গ, ভারত।
-
ছড়া ও কবিতা
-
10-08-2020
-
-