অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
অভিযাত্রী - তাইজুল আরেফিন

তদিন শুধু একা হেঁটেছি পথ-একাই,
অভিমানী আঁখি অভিলাষী মনে;
খুঁজেছে সুখ ব্যথায় ভ্রমে।
করুণা চাইনি ছেয়েছি আঁখি- শুষ্ক শীতল,
চেয়েছি হাসি রৌদ্র মাখা, আলোয় শুচি;
অন্ধকারে দেখেছি পৈশাচিক হাসি।
ভুল দরজায় নেড়েছি কড়া ভ্রমে বিভ্রমে  
ওপাশ হতে শুনেছি কর্কশ ধ্বনি।

তুমি দেখো নি, তীব্র রোদে পোড়া চর্ম-চিবুক
ঘামের গন্ধ আর রোদের গন্ধের সন্ধি, সমাস।
পাতাল চুষে কারা জল এনেছে বৃক্ষের মতো।
কালবৈশাখীর আঘাতে ভেঙেছে সতেজ শাখা,
শিকড়ে নির্বর্ষ মরু বালুকা, তবু মাথা তুলিবার
প্রবল তাড়নায় রুক্ষ পাতার শাখা।

তুমি বোঝো নি,
বেলে মাটি আঁকড়ে ধরে দাড়িয়ে থাকা কতটা কঠিন;
কতটা ক্লেশে শিকড়-মাটির রস পৌছে দেয় শিখরে।
নির্ঘুম কেটেছে কতটা রাত, কতটা প্রহর!
সন্ধ্যাতারাও হেঁটে হেঁটে একসময় হয় সুখতারা,
সূর্যালোকে মিলিয়ে যায় তারাদের পিচ্ছিল পথ।

তুমি জোছনাপ্রিয়, জোছনার আলোয় মাখো-
তোমার শৌখিন দেহ।
দখিনের বাতাস তোলে তরঙ্গ তোমার বিলাসী চুলে;
আমি মৃত্যু নিরব উপকূলে, ছেড়া পালে;
উর্মিমালার কাছে সঁপেছি  আমার তরণী,
ভাটার স্রোতে অস্তপানের দিকে।
দূর হতে শঙ্খচিলের ডাক আমি শুনেছি,
তুমি, শোনো নি।

তাইজুল আরেফিন
বরিশাল, বাংলাদেশ।