অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
সবান্ধবে আছি - ড. রাখীবৃতা বিশ্বাস

চার দেয়ালের অপ্রতুল ঘেরাটোপে
অস্তিত্বের অনাকাঙ্ক্ষিত নিবাস।

কথারা পায় না ভাষা কোনো,
মেঘে মেঘে জমে মুক্তির আশ!

সমগ্র এই পৃথিবীকে,
আঁকড়ে ধরেছি মুঠোফোনে।

এক ফোঁটা মুক্তির লোভে,
ভাবাতুর মিথ্যে আস্ফালনে!

রাত্রির আবেশ নিয়ে
আকাশ ভরা তারারা, নেমে আসে ...

ছায়ারা ছড়িয়ে দেয় মায়া...
নিয়ত কাঁদায়, আর হাসে।

আমিও তো সব ঋতু হয়ে,
আবহমান থাকি শুধু, তাদেরই অপেক্ষায়...

আমার আদুরে মিঠে রোদ আর
বিনিদ্র রাত্রিতে অস্ফুটে, একলাটি চিলেকোঠায়...

নিঃসঙ্গ জীবনের মাঝেও,
বারান্দাটা ফুলে ভরে আছে!

হয়ে চলে আদান প্রদান,
দুঃখ - সুখ ওদের সাথে...

ওরাই যে রেখেছে বাঁচিয়ে...
জীবনকে সযতনে কংক্রিটের মাঝে, সকাল সাঁঝে।

অলিন্দে সাজানো আমার ফুলের সংসার,
রূপ, রস, বর্ণে, গন্ধে করে নির্ভার।

আলামান্ডা আর ক্রোসান্ড্রারা
জড়িয়ে রয়েছে একসাথে।

পিটুনিয়ার কত কথা রোজ
বন্ধু বুদ্ধ জুঁইয়ের সাথে।

ইচ্ছে হয় খেলা করি বৃষ্টিশেষে ভিজে করিডোরে,
আলো মাখি এক ঝাঁপি, ক্যালাইডোস্কোপের ভাষায়!

ফুরুস ফুটবে জানি নতুন কোনো নামে,
ফুল হয়ে পর্ব জুড়ে, আকাঙ্ক্ষিত আলোর আশায়।

গরবিনী গোলাপকে
আগলে রেখেছে বেল ফুল...

বাতাসের দুলকি চলনে
ঝুল বারান্দাটাও ব্যাকুল।

কি যেন কানে কানে
বলে গেল মিষ্টি বকুল...

পাতা বাহারের বন তাই,
আত্মহারা, আনন্দে আকুল।

ন্যাস্টারশিয়াম, ফ্লক্স মিলে
আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছে কার্নিশে,

জবা আর গোলাপ ও যে হাসে
নিয়মিত এখনো এই কঠিন অবকাশে।

পেন্টাস, নেরিয়াম দিয়ে যায় সায়
নির্বান্ধব বোগেনভেলিয়াও রঙীন স্বপ্ন দেখায়।

এমন পোড়া দিনেও আছি সবান্ধবে
ফুলে ফুলে সুখী আমি অপার বৈভবে।

ড. রাখীবৃতা বিশ্বাস
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ