অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
গোলাম রববানী’র দু’টি কবিতা

অদেখা বন্ধু আসে
দেখি না চক্ষু মেলে
তবুও তোমাকে খুঁজে পাই-
নরম নরম শীতভেজা কুয়াশায়;
আমার চোখের স্থির জলের আয়নায়
দেখি আমি চনমনে কী এক বাহানায়।

তোমাকে শুনি বাতাসের ভাসা যানে
আরো বেশি শুনি তরঙ্গের কল্লোলে 

শরতের মেঘে আহা কী যে মন ভরে
তোমাকে দেখি তো গোধূলির আঁকা 
আকাশপটে রংধনুর ধনুক বাঁকে!

তোমাকে পাই হাঁটা পথের 
পিচঢালা কংক্রিটের রাস্তায়
জমে যাওয়া গোছা পানির
আকাশ পড়া বিশাল আয়নায়

তোমাকে পাই স্মৃতির কল্পনায় 
বিন্দু বিন্দু স্বচ্ছ জলের ডগায় 
দূর্বাঘাস শরীরের কচি পাতায়

তোমাকে পাই পুষ্করিণীর বুকে
শুকনো এক বাঁশের মাথায় 
বসে থাকা মাছ শিকারী 
নীলধূসর মাছরাঙার 
সুচালো ঠোঁটে!

এতো যে দেখি এতো যে শুনি
তবুও তো হয়নি ঠিক জানাজানি! 

এখন তো স্বপ্নে দেখি, দেখি যে
হৃদয়ের আয়নাতে মরচে মলিন!

এখন শুধু ময়না ভাবে
মেঘের রঙ কেন সাদা-কালো হয়!

এখন ডিজিটাল যুগ-২
লছে এখন ডিজিটাল যুগ 
হে অনাগত শিশু এবার ধর কলম
এবার কঠোর চিত্তে ঝোঁকো পুস্তকে 

হে অনাগত শিশু এবার ছাড়ো ডিজিটাইজ 
তোমার বেশভূষায় আড়ম্বরের প্রয়োজন নেই 
প্রয়োজন নেই তো ইলেকট্রনিকস ডিভাইসের!

হে শিশু তোমায় দিলাম ঊর্মিমালী সিন্ধু
তুমি আঁকো নীলিমার ঐ আভায় ছবি
তুমি অবাধে সাঁতার কেটে হও পার
দৌড়ে মানব শিকল ডিঙিয়ে হও অপর!

হে অনাগত শিশু তোমার হাতে জনকের মুখ
ভবিষ্যতের কাণ্ডারি তুমি দেখি সবার সর্ব সুখ 

হে অনাগত শিশু যেজন করিল তোমায় আজ সৃষ্টি 
কেন তাকে আজ বিদায় দিয়ে কর এক অনাসৃষ্টি! 
সে তো নয় ফ্যালনা! কেন কর নানারকম বায়না 
হে শিশু নীতি নৈতিকতার অবক্ষয় আর তো চাইনা!

গোলাম রববানী 
কেশবপুর, যশোর
বাংলাদেশ