অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
শান্তনু দত্ত’র দু’টি কবিতা

মরুভূমির ফুল
ময়ের হাত ধরে চলেছি
আমরা সবাই।
চলমান জীবন তার নাম।
সময়ের হাত ধরে যে পথ চলা,
সে পথে পথিক তুমিও, হে বন্ধু
তোমার পথ চলার ক্লান্তি তরল হয়ে
ঝরিয়েছে বিন্দু বিন্দু ঘাম।

জীবন মরুতে ক্যাকটাসের কাছে
একটু ছায়া চেয়ে,
তুমি পেলে শুধু কাঁটার আঘাত।
জীবনের প্রতিটি মুহূর্তও ছুটে চলে
দূরন্ত গতিবেগে।
তবুও বালিয়াড়ি ও পাহাড়ের টানে
দিনের আলো ঘূর্ণি হয়ে তোমার চোখে,
মরিচিকার মতো জেগে থাকে
সারা রাত।
চলমান জীবনের পথে আমরা
দুই পথিক,
ক্লান্তিতে হয়েছি ম্রিয়মান।

আজ না হয়,
হৃদয়ের অন্ধকারে হাজার বাতি
জ্বালো।
হাজার বছরের অন্ধকারে 
পথ চলতে যদি না লাগে ভালো।
শূন্য মরূর বুকে কে মোছাবে
তোমার কান্না আর ঘাম।

আমি ছায়াপথে তোমাকে খুঁজেছি
নক্ষত্রের আলোয়।
তোমার হাসির মতো আমার
জীবনের কক্ষপথে
কয়েকটা ধুমকেতু এসে কথা কয়।
কয়েকটা ব্যর্থ প্রেমের কাঁটা এখানে
ছড়িয়ে আছে, নর কঙ্কালের মতো,
শুকনো মরুর বুকে।
জীবন মরুভূমির ফুল,
তার পাপড়িতে, আমি অশ্রু দিয়ে
লিখে দেব,
হে বন্ধু, তোমার নাম।

জল আয়না
ক রাশ বাতাসে পালকের মতো
শরৎ উড়ে এলো,
আমার নীল আকাশের সীমানায়।
পালতোলা নৌকার মতো মন দোলে
সোনালী জোয়ার ভাঁটায়।
আজ কয়েকটা নীল আকাশ পেরিয়ে
নদী পথে ফিরে যেতে চাই উৎসে,
তোমার সাথে।
যেখানে বাদামী পাথরের খাঁজে
ঝরনা মুখর হয়েছে  নদী,
কালচে সবুজ শেওলার সংঘাতে।
সেখানে তুমিও ঝর্ণা হতে পারো,
অথবা ঝর্ণা ধারায় নিজেকে
খুঁজো জল আয়নায়।

এবার যাযাবর পাখীদের মতো
ঘরে ফিরে চলো।
অন্য আর এক দিন শুনে যাবো 
নীল পাহাড়ের গান।
সাদা মেঘগুলো দল বেঁধে
ঘর বাঁধে নীল পাহাড়ের কোলে।
এখানে সবুজ ঘাসে মোড়া 
উপত্যকার, দিন হতে চায়
অবসান।

একটু পরেই চাঁদ তার
রেশমী চুলে কামিনীর গন্ধ বুনে
ছড়িয়ে দেবে অন্ধকার।
আবার তারাদের আলোয় 
জোনাকিরা দেখে যাবে,
নিস্তব্ধ অরণ্যের কতটা গভীরে
লুকিয়ে আছে উষ্ণ প্রস্রবণ।
তারপর, একটু উষ্ণ স্নান সেরে
তুমিও ঘুমিয়ে যাবে
ফেলে আসা স্বপ্নের দেশে।
সেইসব জোনাকির মতো,
ফসফরাসের আলোয় একঘেয়ে 
হয়ে গেছে যাদের জীবন।

শান্তনু দত্ত
বাগনান, পশ্চিমবঙ্গ
ভারতবর্ষ