অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
বিকাশ চন্দ'র দুটি কবিতা

কৃষ্ণ অনুচর
রণ্য পেতেছে হাত জানে তুচ্ছ বনভূমি মাটির ফসল
মহামারী কেটে যাবে মড়ক হাহাকার জানে আত্ম কথন 
হাথরস কুমারী কান্না বোঝে রক্তিম কুসুম বাহার বকুল যন্ত্রণা
অদৃশ্য ত্রিশূল মাংসল আহার বোঝে বোঝে না তুষার পুরুষ
হৃদয় ভাঙ্গেনি ভেঙ্গে যায় বিনম্র জন্মকুঠি আলোঘর
সিংহাসনে জেগে থাকে রাজা রানী কেমন রাজত্ব তোর! 

সমাধি গহ্বর জানে না শিলালিপি সংবাদ
প্রাণে প্রাণ কতকাল অন্তর বাঁধনে গুমরে অভিমান
সোনালী ধানের রোদ তখন হেমন্ত সকাল
সারা সন বৎসর সানন্দে বাঁধা আঁচলে সুরময় সুঘ্রান
অনাহুত সময় যারা বেঁধেছো অনৃত মৃত্যু বাঁধনে
খুলে ফেলো আঁচল ফাঁস নীল আতঙ্কে বাঁচে যুবতী রাত। 

বীভৎসতা থেমে নেই অনুধ্যানে ব্যাস্ত পাশব অনুচর
মায়াচর ও বোঝে উদার আলোর আকাশ বিষণ্ণ শিউলি   
সুধাময়ী আত্মার কথা বোঝে না হায় অকাল ছায়া পথ
আর কত কৃষ্ণা সময় ভেজে প্রেমময়ী সুরে ব্রজবুলি
ক্রমশ হারিয়ে যায় মন ভরণী নারী পুরুষ উদাস বাউলা
লাল নীল হলুদ গোলাপী মুখ ছোঁয় প্রশান্ত সে কৃষ্ণ অনুচর।

শূন্য ঘরে নাচে জোনাকি রাত
সাদা জামাটায় ছিঁটিয়েছে রক্ত কুশলীর ক্যানভাস খেলা  
কিছুতেই মেলাতে পারিনা আশ্চর্য বনবাস, 
সকল বন্ধুরা সমাজ মাধ্যমে রেখে গেছে ভালোবাসা
বুঝেছে কার্তিক পাটনি ধানের শিশির ভেজা ঘ্রাণ, 
আমাকে জড়িয়ে রাখে বসন্ত সময় বন্ধু স্বজন
কথা প্রাণে সেলফোনে রিংটোনে জীবন বন্ধন! 

চেনা পথ টানে চেনে সে ক'জন কাঙাল পথিক---
বুকের বাঁ দিকে দুঃখ গহ্বর ডান দিকে ব্যাস্ত পরশ পাথর, 
গাছ গাছালি ছুঁয়ে সন্ধ্যা পাখি ডেকে বলে সীমান্ত খবর। 
প্রত্যেকের বরাদ্দ একটা আলোর দিন গ্রাম শহর---
আশ্চর্য খুনিদের চেনা হাসি হাতে হাত কথা সমস্বর
খণ্ডিত জননী জানে আবারও অন্ধকার উষ্ণ জন্ম জঠর। 

অদৃশ্য নরখাদক দেখে বোঝে ভাষা নীল মৃত্যু ডাক---
বসন্তবৌরি জানে তার ডাকে কার ঠোঁটে ফোটে হাসি
অবিশ্বাস্য সময়ে সকল বৃত্তান্ত কোন ভাষায় কেমন আকুতি। 
চোখের জলের ডাক কতটা বোঝে নদী মাটি নারী জল ভূমি
অসহ্য বিপনন বোঝে শস্য জনক জননী খুলে ফেলা অঙ্গ ভরণী,
মর্ত্যে নামে পারিজাত আলো একা শূন্য ঘরে নাচে জোনাকি রাত। 

বিকাশ চন্দ
কাঁথি, পূর্ব মেদিনীপুর
পশ্চিম বঙ্গ, ভারত