অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
গোলাম কবির-র দু’টি কবিতা

ফাল দেয়া রুই মাছ 
কেডায় জানি কইলজার ভিতরে 
ফাল দিয়া ওঠে গহীন আন্ধার রাইতে, 
পাশ ফিরা হুইয়া থাহি! 
ঘুম আহে না চক্ষুর কোনাকান্দায় একটুও! 
আবার ফিরা হুইয়া থাহি,
আবার যেনো ফাল দিয়া ওঠে 
পুকুরের ঢাউস রুই মাছের লাহান! 
জিগাই নিজেরেই,  
কেডায় এতো রাইতে কইলজার ভিতরে
মোচড়াইয়া ফাল দিতাছো? 
উত্তর আহে না কোনো! 
সাহস কইরা আবার জিগাই, কেডা তুমি? 
এইবার মনেহয় বহুদুর থনে উত্তর আহে,     
"আমি তোমার জমানো পাপ!" 
আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ 
কইতে কইতে রাইত ফুরাইয়া গিয়া 
ফজরের আজান হুনলে পরে 
কুইচ্চা মুরগির লাহান গাও ঝাড়া দিয়া
কম্বলের আরাম ফালাইয়া 
লৌড় দিয়া মসজিদে!

দীর্ঘ একটা ঘুম দিতে চাই
কী রে এখনো ঘুমাস নি!
ঘুমাই কী করে বন্ধু বলো? 
ভালবাসা হারিয়ে গেছে মানুষের 
হৃদয় থেকে, ইটপাথর আর চারদেয়ালে
ঘেরা মানুষেরই গড়া মেকি সভ্যতার
মুখোশের অন্তরালে। এখানে ভালবাসা
কোথায়! মানুষের চোখ গুলো এখন
হয়ে গেছে যেনো শুধুই ধর্ষকের চোখ!
শুদ্ধ প্রেমের আকালে পুড়ছে প্রকৃত
মানুষের হৃদয়।এখন ঘুমের ঘোরেও 
শুধু শুনি এপাড়া, ওপাড়ায় ধর্ষণ! 
কখনো প্রেমের ফাঁদে ফেলে কখনোবা
পশুর মতো জোর করে! 
তাই কবি'র চোখের ঘুম হয়েছে উধাও,
ভেসে যাচ্ছি অকাল অশ্রুর বন্যায়। 
এই যদি হয় মানুষের আদল, 
তবে আর দ্বিধা কিসের, 
চলে যেতে চাই পৃথিবী ছেড়ে! 
যদিও জানি আমার অভিমানের 
কোনো মূল্যই নেই ওদের কাছে, 
তারপরও দীর্ঘ একটা ঘুম দিতে চাই 
আসহাবে কাহাফের উল্লেখিত দলের মতো,
যেনো আমায় জেগে উঠে 
আর কোনো ধর্ষণের খবর শুনতে না হয়।

গোলাম কবির
তাজমহল রোড
মোহাম্মদপুর, ঢাকা