যেভাবে ভালোবাসা আসে - সুনির্মল বসু
হেমন্তের পাতা ঝরার দিনে ঝরা বকুলের পথ ধরে তুমি চলে গেলে, তুমি কথা রাখলে না, পিছু চাইলে না, পুরনো গান গাইলে না,
চৈত্রের ফুল ঝরা দিনে কে আর বসন্তদিনকে মনে রাখে, সেদিন শিমূল বন আমার জন্য কেঁদেছিল,
শূন্যপথ পড়ে রইল হতাশায়, আকাশ ও প্রকৃতি সেদিন কেঁদে ভাসিয়েছিল,
তুমি ফিরেও তাকাও নি, অনুরাধা, আমি কি কেউ নই, বিকেলে গড়িয়াহাট মোড় কাঁদে, উড়ালপুলে ট্র্যাফিক জ্যাম, দুরন্ত দুপুরের চূড়ান্ত হাঁসফাঁস,
পুরনো স্মৃতির উতরোল ঝড়ে বাতাস কাঁদে,
আমি বসন্ত দিনের দিকে চেয়ে থাকি, এখনো যে কত কথা বলা বাকী,
দোষ কি শুধু আমার একলার ছিল,
অনুরাধা, এত উপেক্ষা নিয়ে কেমন করে বাঁচি,
ভালোবাসা কি খোলামকুচি,
আমি মানিয়ে নিয়েছিলাম, স্মৃতির যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকা বড় কষ্টের,
রাবার দিয়ে কাগজ মোছা যায়, স্মৃতির কষ্ট মোছা যায় না,
মনে পড়ে, সেই বর্ষণমুখর দিন, সরস্বতী পূজোর সকাল, অষ্টমীর আলোকিত সন্ধ্যা,
লেকের জলে উৎসারিত আলো, সে সময়টা ছিল অসম্ভব ভালো,
তুমি চলে গেলে, তুমি চলে গেলে,
এখন আমি আমার অন্ধকার ঘরে আমার মতো একলা, আমার কবিতার খাতার পাতা বাতাসে পত পত উড়ে যায়, কথা আসে না, ভাষা আসে না,
বুঝলাম, তোমার সঙ্গে আমার কবিতারাও আমার সঙ্গে আড়ি করেছে,
বসন্ত দিন এলো,
কৃষ্ণচূড়ার গাছে লালে লাল, ঝাউ বীথিতে উতল হাওয়া, পাইন বনে বাতাসের সিম্ফোনি, কাঠবাদাম গাছে এসে বসল বসন্ত বাউরী, মাছরাঙ্গা পাখি জলের উপর দিয়ে উড়ে গেল, পানকৌড়ি জলে ডুব সাঁতার দিল,
তুমি এলে, আমার পাশে বসলে, আমায় বললে,
হেমন্ত দিনে চলে গেছিলাম, বসন্ত দিনে ফিরে এলাম,
এভাবে কষ্ট দিলে যে,
বসন্ত দিনের স্মৃতি তোমার কাছে ফেরালো, স্মৃতি কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করে না,
তাই বুঝি,
হ্যাঁ তো,
মাধবীলতার বন বাতাসে দুলছিল, দীঘির জলে রাতের জ্যোৎস্না ভেসে যাচ্ছিল, সুপারি বন দুলছিল,
শিরীষ গাছের আড়ালে চাঁদের আলো,
তুমি বললে, এবার থেকে বাসবো তোমায় ভালো,
আকাশের তারা গুলো আমাদের দিকে চেয়ে ছিল,
আমার না বলা কথাগুলো এখন স্বপ্নপুরীতে মধুর আাবেশে ডুবে গেল,
এতদিন বাদে আজ আবার আমি আমার কবিতার খাতা খুলে বসলাম।
সুনির্মল বসু
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
-
ছড়া ও কবিতা
-
11-12-2022
-
-