অটোয়া, রবিবার ১৮ আগস্ট, ২০১৯
অটোয়ায় বিজয় দিবস ২০১৮ – কবির চৌধুরী

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের মত অটোয়ার অভিবাসী বাংলাদেশীরাও বাংলাদেশের ৪৮তম ‘মহান বিজয় দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে উদযাপন করেন। এবছর অটোয়ায় পরপর দুই দিন ‘মহান বিজয় দিবস’ উদযাপন করা হয়। প্রথম দিন ‘বিজয় মেলা’র আয়োজন করে অটোয়ার অভিবাসী বাংলাদেশীদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন, ‘বাংলাদেশ কানাডা এ্যাসোসিয়েশন অব অটোয়া ভ্যালী (বাকাওভ)’। আর দ্বিতীয় দিন আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন। আমার সুযোগ হয়েছিল ‘বাকাওভ’ এবং ‘বাংলাদেশ হাইকমিশন’ আয়োজিত উভয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার। সুযোগ এই জন্যই বলছি যে, প্রবাসের এই ব্যস্ত সময়ে এধরনের অনুষ্ঠানগুলোতে যাওয়ার সময় পাওয়া যায় না যদিও আধুনিক কালের ‘পটলাক’ পার্টি বা বিজাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতে যাওয়ার জন্য মাসখানেক আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখি।     
গত দুদিন থেকেই ভাবছি অটোয়ায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘মহান বিজয় দিবস’-এর সংবাদ লিখবো। কিন্তু লিখতে পারছিলাম না। অন্যতম কারণ- বর্তমান জামানার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক এর উপদ্রব। জ্বী, আমরা যেভাবে আমাদের সবার ফেইসবুক এমন কি আয়োজকদের ফেইসবুক পেইজে অনুষ্ঠানের ফটো আপলোড করেছি, তাতে মনে হয়েছে সংবাদ ছেপে লাভ নাই। অনলাইনে ছাপানো সংবাদ কয়জনে পড়বে? আজকাল আমরা পড়ার চেয়ে দেখতেই যে মজা পাই বেশী। তারপরেও আমাদেরকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সংবাদ ছাপাতে হয়। সংবাদ ছাপানোর জন্যেই তো পত্রিকা। অটোয়ার একমাত্র সাহিত্য পত্রিকা আশ্রমে ‘বাকাওভ’ এবং ‘হাইকমিশন’ কর্তৃক আয়োজিত ‘মহান বিজয় দিবস-২০১৮’ উদযাপনের সংবাদ আলাদা আলাদা না করে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে ভিন্ন কিছু লিখছি বলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে, আমি নিশ্চিত এই লেখার মধ্যে উভয় অনুষ্ঠানের অনেক খবরই আপনারা পেয়ে যাবেন।

 অটোয়া বাংলাদেশ হাউসে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন করছেন অটোয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান

 বাকাওভ আয়োজিত বিজয় মেলায় মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন         

যাইহোক, যা লিখছিলাম, দুটো অনুষ্ঠানেই আমার উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। ‘বাকাওভ’ এবং ‘হাইকমিশন’ এর ‘মহান বিজয় দিবসে’র অনুষ্ঠান। দুটোই আলাদা আলাদাভাবে দুই দিনে উদযাপিত হয়েছে। প্রথমটির আয়োজক ‘বাংলাদেশ কানাডা এ্যাসোসিয়েশন অব অটোয়া ভ্যালী’। অটোয়ার বাংলাদেশীদের কাছে ‘বাকাওভ’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত। ‘মহান বিজয় দিবসে’র অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আমার এই লেখার প্রধানতম কারণই হল এই ‘বাকাওভ’। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং ‘বাকাওভ’ একই সূতায় গাঁথা। কথিত যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অটোয়া এবং আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাঙালিরা বাংলাদেশের যুদ্ধপীড়িত জনসাধারণের জন্যে আর্থিক সাহায্য সংগ্রহ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কানাডা সরকারের অবস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ভাবে কাজ করেন। সেইসব দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীরা পরবর্তীতে ‘বাংলাদেশ সমিতি’ নামে একটি সংগঠনের গোড়াপত্তন করেন যা পরবর্তীতে ‘বাংলাদেশ কানাডা এ্যাসোসিয়েশন অব অটোয়া ভ্যালী (বাকাওভ)’ নাম ধারণ করে।  সেকারণে অনেকেই বাকাওভ-কে মুক্তিযুদ্ধের জাতক বলে অভিহিত করেন।  যা লিখছিলাম, বাকাওভ আমার কাছে সবসময়ই খুব প্রিয় একটি সংগঠন। সেই ১৯৮৮ ইংরেজীর শুরুতে- কানাডায় অভিবাসন নেওয়ার পর থেকেই। অটোয়ায় তখন হাতেগোণা কিছু বাংলাদেশির বসবাস। যার অধিকাংশই নতুন আগত। সেইসব নতুনদের মাধ্যমেই ‘বাকাওভ’-র সাথে পরিচয় আর সাংগঠনিক কাজকর্মের সাথে নিজকে জড়িত করা। আমার মত অনেকেই এই সংগঠনটিকে প্রাণ দিয়ে ভালবেসেছেন। এখনও এই শহরে অনেকে নিজেদেরকে ‘বাকাওভ’-এর প্রাক্তন সভাপতি-সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন। তবে বারবার নেতৃত্বের খামখেয়ালীপনা আর আমিত্বের কারণে ‘বাকাওভ’ আমাদের দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়। এই আসা-যাওয়ার মাঝে গত বছর নভেম্বর মাসে সৈয়দ ফারুক আনোয়ার মিন্টুর নেতৃত্বে বাকাওভ-কে পুনর্গঠিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। অনেক বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে প্রায় ৮বছর পর গত ১৫জুলাই, ২০১৮ নির্বাচনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিককর্মী শাহ্‌ বাহাউদ্দীন শিশিরের নেতৃত্বে বাকাওভের ৯ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। 

  হাইকমিশন আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান 

অনেক বছর হয় আমাদের এই শহরে ‘স্বাধীনতা দিবস’, ‘বিজয় দিবস’, অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাথে জড়িত দিবসগুলো অটোয়াস্থ ‘বাংলাদেশ হাইকমিশন’ এবং বাংলা পত্রিকা ‘আশ্রম’ ছাড়া আর কোন সংগঠনকে পালন করতে দেখা যায়নি। উল্লেখ্য যে, একটিভ ‘বাকাওভ’ সবসময়ই বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো পালন করে ছিল। ‘বাকাওভ’-এর অবর্তমানে বাধ্য হয়ে আমরা দুচার জন আশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় দিবসগুলো পালন করার চেষ্টা করেছি। উল্লেখযোগ্য আশ্রমের মাধ্যমে গত বছর ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের ৪৭তম বিজয় দিবস উপলক্ষে অটোয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া। বলতে দ্বিধা নেই, সর্বজন সমর্থিত সংগঠন ছাড়া জাতীয় দিবসগুলো উদযাপন করা অনেকটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। সেই অনুষ্ঠানে অটোয়াবাসী বাংলাদেশীদের কাছে আমার সবিনয় নিবেদন ছিল- আগামীতে যেন আমরা আমাদের জাতীয় দিবসগুলো আমাদের সংগঠনগুলোর মাধ্যমে করতে পারি। কারণ, আমাদের কৃষ্টি- আমাদের কালচার, আমাদেরকেই লালন-পালন করতে হবে। অপ্রিয় হলেও সত্য আমরা এখন অভিবাসী। এই ভূমিই আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্মভূমি-আবাসভূমি।

 বাকাওভ আয়োজিত 'বিজয় মেলায়' শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখছেন অটোয়া সিটির মেয়র মিঃ জিম ওয়াটসন

এবারের বিজয় দিবস আমার কাছে ভিন্ন তাৎপর্য নিয়ে এসেছে। কারণ প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশী অধ্যুষিত শহর অটোয়ায় এখন মুক্তিযুদ্ধের জাতক ‘বাকাওভ’ সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বাংলাদেশের ৪৮তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয় মেলার আয়োজন করেছে। মনে হল অনেক বছর পর - অটোয়ায় আমরা বিজয় দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছি। আমার মধ্যে বিজয়ের এই আনন্দ পৌঁছে দেওয়ার জন্যে বাকাওভ এর কার্যকরী পরিষদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।       
তারিখটি মনে নেই। মাস দুয়েক তো হবেই। ফেইসবুকের মাধ্যমে জানতে পারলাম ‘বাকাওভ’ ১৫ই ডিসেম্বর – ২০১৮, বাংলাদেশের ৪৮তম ‘মহান বিজয় দিবস’ উপলক্ষে ‘বিজয় মেলার’ আয়োজন করবে।  পোস্টটি দেখেই বাকাওভ-এর সভাপতি বন্ধুবর শাহ্‌ বাহাউদ্দিন শিশিরকে ফোন দেই। জানতে চাই ১৫ তারিখ কেন? বিজয় মেলা কেন? বন্ধুবর উত্তর দিলেন, “আমরা সবাই জানি- বাংলাদেশ হাইকমিশন সবসময় বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো পালন করে। এবার যেহেতু ১৬ই ডিসেম্বর রবিবার, তাই আমার বিশ্বাস হাইকমিশন ১৬ তারিখই দিবসটি পালন করবে। আমরা জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো পালন নিয়ে কারো সাথে কনফ্লিক্ট করবো না। তাই আমরা ১৬ তারিখের আগেই বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করে ফেলবো। আর ‘বিজয় মেলা’ করার কারণ হলো- ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের কাছে যেমনি বেদনার তেমনি আনন্দের। এই দিনটিতে আমরা সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই। বিশেষ করে এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই। মেলার মাধ্যমে তা করা সম্ভব”। 

  বাকাওভ আয়োজিত 'বিজয় মেলায়' শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখছেন কানাডা ফেডার‍্যাল পার্লামেন্টের নিপিয়ান এরিয়ার এমপি মিঃ চন্দ্রা আরিয়া 

‘বাংলাদেশ কানাডা এ্যাসোসিয়েশন অব অটোয়া ভ্যালী (বাকাওভ)’-এর সভাপতি শাহ্‌ বাহাউদ্দিন শিশির তাঁর কথা রেখেছেন। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, স্থানীয় ওভারব্রুক কমিউনিটি সেন্টারে সারাদিনব্যাপী ‘বিজয় মেলা-২০১৮’ অনুষ্ঠিত হয়। ‘বিজয় মেলায়’ বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতীত মা-বোনদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন, মহান বিজয় দিবস নিয়ে আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি, ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচনা লেখা, চিত্র অংকন করা, গান পরিবেশনা করা ইত্যাদি। বাকাওভ আয়োজিত বিজয় মেলার বড় স্বার্থকথা ছিল অটোয়া সিটির মেয়র মিঃ জিম ওয়াটসন এবং কানাডা ফেডার‍্যাল পার্লামেন্টের এমপি মিঃ চন্দ্রা আরিয়াসহ অটোয়াবাসী সর্বস্তরের বাংলাদেশীদের উপস্থিতি এবং আসা যাওয়া। পুরো অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে পরিচালনা করেন যথাক্রমে- বাকাওভের সাংস্কৃতিক সম্পাদক- সাদিকা পারভিন চন্দনা, তথ্য-প্রযুক্তি সম্পাদক- ফিদা আদিব বখত্‌, সাধারণ সম্পাদক- আছিয়া বেগম ঝুমুর এবং সভাপতি শাহ্‌ বাহাউদ্দীন শিশির। ‘বাকাওভ’-এর সভাপতি তাঁর বক্তব্যে প্রতিবছর ডিসেম্বরে ‘বিজয় মেলা’ আয়োজনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জয়তু ‘বাকাওভ’।     
এই তো গেল আমাদের প্রিয় সংগঠন বাকাওভের আয়োজন। এখন দেখা যাক পরের দিন অর্থাৎ ১৬ই ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ হাইকমিশন’ কিভাবে দিনটি উদযাপন করেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পেরেছি হাইকমিশনের অনুষ্ঠানটি দুই পর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্বটি ছিল সকালে। ‘বাংলাদেশ হাউসে’ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেখানে আমার যাওয়ার বা থাকার সৌভাগ্য হয়নি। সত্য কথা বলতে আমি অনুষ্ঠানের এই পর্বের কথা জানতাম না। তবে জাতীয় দিবসগুলোর দিনগুলিতে পতাকা উত্তোলনে আমি বা প্রবাসী বাঙালিদের উপস্থিতি থাকলে নিজেদেরকে ভাগ্যবান মনে করতাম। আমি আশা করবো যদি প্রটোকল বা কোন বিধিনিষেধ না থাকে তাহলে বাংলাদেশ হাইকমিশন পতাকা উত্তোলনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করবে। যাই হোক ১৬ই ডিসেম্বর বিকাল পৌনে তিনটার দিকে ব্রনসন সেন্টারের ম্যাক হলে পৌঁছে যাই। আমি একটু আগেই চলে গিয়েছিলাম। আমি সবসময়ই তা করি। কোন অনুষ্ঠানের শুরুটা আমি মিস করতে চাই না। হাইকমিশন কর্তৃক মহান বিজয় দিবস এর দ্বিতীয় পর্ব বিকাল আনুমানিক সাড়ে তিনটায় মিশনের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান ফারহানা আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় হাইকমিশনের কর্মকর্তা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ প্রায় শ’খানেক বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর, এ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন যথাক্রমে, কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) মিয়া মোঃ মাইনুল কবির, কাউন্সেলর (পাসপোর্ট ও ভিসা) মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রথম সচিব (বাণিজ্য) মোঃ শাকিল মাহমুদ এবং প্রথম সচিব (কন্স্যুলার) অপর্ণা রাণী পাল। বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত বাণী পাঠের পরপরই অটোয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় হাইকমিশনার মিজানুর রহমান তাঁর স্বাগত বক্তব্যের শুরুতে সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর অবিচল ও দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিপাগল জনগণ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো। তিনি ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের শাহাদাৎ বরণকারী লাখো বীর শহীদ এবং ’৭৫ এর ১৫ই আগস্টের কালোরাতে শাহাদাৎ বরণকারী জাতির জনকের পরিবারের সদস্যবৃন্দের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এর সোনার বাংলা গঠনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে উন্নীত করতে বর্তমান সরকারের সফলতা এবং উদ্যোগের বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশ গঠনে অধিকতর অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।   
হাইকমিশনার মিজানুর রহমানের সারগর্ভ বক্তব্যের পরপরই  স্থানীয় শিল্পীসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে আগত অতিথিদেরকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।

কবির চৌধুরী
অটোয়া, কানাডা।