অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
আমি একখন্ড বাংলাদেশ - মৌ মধুবন্তী

মি একটি নরম বাংলাদেশ হতে চেয়েছি
বুকের জমিনে রোপণ করে রেখেছি অভুক্ত উঠোন
দৌড় ঝাপ পুকুর ও বাড়ির পেছনে আম বাগান
আমি এখনো আমের মুকুলের পাই ঘ্রাণ
এখনো পুকুরের পাড় ভাঙ্গার শব্দ আসে কানে।

আমি মুক্তি যুদ্ধ দেখেছি; মুক্তি যোদ্ধাদের 
রাইফেলে তেল দিয়ে ধানের গোলায় লুকিয়ে 
রেখেছি, মায়ের সাথে। মা ছিল পঞ্চম বারের
মত সন্তান সম্ভবা। প্রতিদিন অনেক বড় বড় 
পাতিলে ভাত রান্না হতো। সাদা ভাতগুলোই ছিল
রাইফেলের ভেতরের বুলেট ও মুক্তিযোদ্ধার শক্তি
আকাশের মেঘ কেঁদে কেঁদে ভাসিয়ে দিত পুকুর
খাল, মানুষের মন, মাঠ -ঘাট- আর স্বাধীনতার অপেক্ষা

কানাডার শীতের বিকেল হয়ে ওঠে নরম বাংলাদেশ
আমার কাছে প্রতিদিন ধরা দেয়, স্নিগ্ধ রোদের আলপনা 
নিয়ে, বিস্তৃত মাঠে নেমে আসে গ্রাম বাংলার সবুজ 
মায়া, লক্ষ্মির আদর আর কৃষকের স্বপ্ন ফসল; 
আমার ও ইচ্ছে করে একটি লাঙ্গল জুড়ে দেই মাঠে

আমার চিন্তার স্বাধীনতা চুরি করে করে কি রকম ভাপা 
পিঠা হলো? ছিল কি আমার হাতের রান্না করা শুটকি
কিংবা ম্যাপেল সিরাপ দিয়ে নারকেল কোরা। 
কেন এই অবান্তর আক্রমণ? , আকাশে যখন নীল 
রঙ্গে আঁকা বোধের ভেতরে সুর্যের উত্তাপ
আমার কোন বিপর্যস্ততা নেই। আমি তো নরম বাংলাদেশ

মুক্তিকামী মানুষ স্বাধীনতার পতাকা তলে ভঙ্গুর চিন্তার বিপক্ষে
আমি সংযমের আধার; প্রত্যয় নিয়ে লড়ি অন্যায়ের বিরুদ্ধে। 
আখ্যা যাই আসুক। ব্যাখ্যা যাই হোক
আমি একখন্ড নরম বাংলাদেশ।

মৌ মধুবন্তী
টরন্টো, কানাডা।