একা আগন্তুক - ফরিদ তালুকদার
ছোট্ট ডেনের দেয়ালে নিঃশ্বাস ফেলা
নিঃসংগ রাতের প্রহর
ক্ষীণ করিডোরে জ্বলন্ত
নিশীথ আভার বাতি
নোট বুকের পাশে পড়ে থাকা
নিস্তেজ কলম
ঘড়ির কাঁটায় টিক্ টিক্ আওয়াজ তোলা
মহাকাল…
সবাই…
চেয়ে আছে যেন
এক আগন্তুকের দিকে।
পাশের ঘরে নিবিড় নিদ্রায় রমনী
নিশ্চিন্ত মুখাবয়ব
যুগ যুগের অধিক ধরে জেনেছি তাকে
তৃষিত অধরের সিক্ত চুম্বনে....
তপ্ত বুকের পরে রেখে বুক
রজনীভর…
নিয়েছি প্রজনন সুখ
সময়ের ভাঙা ডানায়
থুবড়ে পড়া জীবনে কখনো
দেখেছি…
সে আছে পাশাপাশি।
অচেনা এখন খুব।
হিম শীতল বাতাসে কাঁপা
রাস্তার বাঁকে একাকী
ঝিমিয়ে পড়া লাইট পোষ্ট
নেড়ী কুকুরের দখলে
দূরের ফুটপাথ
ঝাঁপ ফালানো টং দোকানের বেঞ্চিতে
ঘুমন্ত কিশোর…
অচেনা পোষ্টারের মত সব
হয়ত উপহাসের কোন ভাষা
লিখে রেখেছে আজ
রাতের এই মুখমন্ডলে।
অবসাদের দেয়ালে ঠেকানো মাথা
পড়ে আছি আলুথালু
নিরুদ্দেশ মনের শয়ানে
পড়ে আছি…
দীর্ঘ ঘুমের ব্যাকুলতা বুকে।
প্রতিদিন একই চাওয়ায়
একই ছোটা
একই ক্লান্ত নিঃশ্বাসে বুক ভরা
রাহু গ্রস্ত জীবনের সব সওদা
সব লেনদেন ফেলে
অবসন্ন প্রাণ…
গভীর ঘুমে হারিয়ে যায়
অনাবাদী সভ্যতার কোন উপত্যকায়…
যেখানে মারণাস্ত্রের নিয়মিত বিস্ফোরণে
সন্ত্রস্ত বাতাস
অকস্মাৎ
জাগিয়ে তোলে না
ছোট্ট হলুদ পাখিদের
যেখানে সন্ধ্যা জোনাকির সভায়
কিশোরী বালার কানে আসেনা
কোন আতঙ্কের ফিসফিসানি
যেখানে ঝর্ণার উল্টো স্রোত ধারায়
নির্বিঘ্ন মাছেরা
নৃত্য করে সারারাত…
কাঁচ ভাঙা শব্দের মত হঠাৎ
জেগে উঠি আবার
মনের অতলে তখনো বয়
বিষয়ী বাতাস
শীতল…
বিষাক্ত সরীসৃপের মত শীসে
জাগিয়ে তোলে আমায়
জেগে উঠি আমি ফের
শান্তির শরণ দ্বীপ ছেড়ে
জাগতিক যন্ত্রণার এই
মহা উৎসবের ভীরে
দেখি জীবন…
পড়ে আছে এখনও
পূরণ নকশার সেই পাণ্ডুলিপিতেই
কেড়ে নেয় সব
ইচ্ছা অনিচ্ছা সাধ
আজন্মের বেড়ে ওঠা ক্ষোভ…
শংকিত নবজাতকের মত
ভয়ার্ত পৃথিবীর পথে
প্রস্তুত হই আরেকবার…
আমি…
একা আগন্তুক।।
ফরিদ তালুকদার
টরন্টো, কানাডা।
-
ছড়া ও কবিতা
-
24-03-2019
-
-