বটুকৃষ্ণ হালদার-র দু’টি কবিতা
নিঃসঙ্গতা
ধুলিকাময় ধূসর মাঠের প্রান্তরে মাথা উচু করে
নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে একাকী তাল গাছটা
ধরাশায়ী জরাজীর্ণ বঙ্গের কাহিনী শোনাতে চায় নীল আকাশটাকে
সম্পর্কের বেড়াজাল ইতি কথার ফাঁফরে গুমরে
গুমরে কাঁদে
ধর্মের দোহাই দিয়ে খুনোখুনি হানাহানি
আপন আপন শোণিত পাত
বোমা বাজি গুলির লড়াই যত্র তত্র
শান্ত জন জীবনে অশান্তি অশুভ এর বার্তা
এ সবের মাঝে খুশি তে রাজনীতির কর্তা
রক্তাক্ত মৃত আধপড়া লাশের দল
সর্বনাশের খেলায় মত্ত্ব পৃথিবী
মেঘের আড়ালে হাসছে অন্তর্যlমী
শুধুই অনৈতিক যুক্তিহীন রাজনীতির যাতা কল
বলি হয় _আমি তুমি
ধর্ম মজা করে লুটপাট এর খেলায়
ধর্মের নামে শকুনি মামার পাশা খেলায় মত্ত পিশাচের দল
নীতিবোধ বিবেক চরম দোটানার মাঝে আটকে নীলকন্ঠের মত
ছাতিম গাছে লুকানো স্বশান পাখিটা স্বাদ পায়
রক্তাক্ত লাশ আধপড়া মাংসের
সময় অসময় নয় চরম দুঃস্বপ্নের স্রোতে গা ভাসায়
নিঃসঙ্গ গুহার অন্ধকারে অচেনা দুটি মুখ বসে মুখ মুখি দাঙ্গার মাঝে ফিস ফিস করে
একে অপরের সুধায় কোন জাত কোন ধর্ম?
আমার একান্ত ইচ্ছা গুলো
মনের কোণে উঁকি দেয় গোপন ইচ্ছার জল ছুট,
মায়াবী স্বপ্নের উড়ান
মেঘ পালকের দেশে ভেসে যেতে চায় মন
তোমার ভেজা শাড়ির আঁচল হয়ে।
আমার নিগূঢ় ইচ্ছে গুলো যখন ভিড় করে তোমার অভিলাসী হৃদয় সরোবরে
তোমার হৃদয় দুয়ার খিল দেয় লজ্জাবতী কনের মত।
তুমি ঝরনা হয়ে পাড়ি দাও, কোন অচেনা কুলের সন্ধানে ?
নীলান্ত সীমানার দূর অজানায়
লাগাম দিতে চেয়েছি বেহিসেবে মনটাকে
সেও শুনিয়ে যায় করুণ আর্তি
আজ বড্ড বেহিসেবি ,খোলামেলা হতে চায় মধুচন্দ্রিমার জোসনা
অজান্তেই বাড়িয়েছিলাম হাত পিপাসার্ত সাগরের বুকে
হয়তো এই ভেবে
এ ভগ্ন কুলে হয়তো আবার নোঙ্গর করবে পসরা,
আজ শুকানো গোলাপের গুচ্ছ খানি, গচ্ছিত হৃদয়ের আলমারিতে
হয়তো বা কেউ আপন হতে চেয়েছিল কোন একদিন
আমার গোপন ইচ্ছা একান্ত অভিসারে
নির্ঘুম স্বপ্নের উড়ান
ফেরিওয়ালার মতো রিক্ত নিঃস্ব শূন্য হাতে ঘরে ফেরা
আজ ও আমার হৃদয়ের একান্ত ইচ্ছে গুলি শুধুই আঁধার রজনী ঘেরা।
বটুকৃষ্ণ হালদার। কবরডাঙ্গা, কলকাতা
-
ছড়া ও কবিতা
-
14-02-2020
-
-