অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
নীলিমা - ফরিদ তালুকদার

ব্যস্ততার মাঝে নীলিমা থাকে না
আমার তাই কোন ব্যস্ততা নেই, আসেনা বার্তার মেইল ট্রেন 
পতিত স্টেশনে, ঝিমোয় কিছু স্মৃতির হাড়গোড় 
কিছুটা জীবন, বিশালাক্ষীর তীরে এখন শ্বেত মর্মর
আরশি উজ্জ্বল দুপুরগুলো সব 
হারিয়ে  যায়  কোথায় সময়ের বিস্তীর্ণ ডানায় 
তবু তো প্রাচীন নয় খুব এই নগরী
জীবন যে শুধু এক অসময়ের বেলা।

চৈতালি রাতের আঙিনায় নেমে আসা নক্ষত্র শুধায়
কে তুমি তাকিয়ে থাকো এমন সারাবেলা? 

বলি, আমিতো দেখি না তোমায়
আমি যে নীলিমার হাতে হাত রাখি 
তার সাথে পথ চলি, খুঁজি অনন্ত সায়র।

কে সে নীলিমা?

ওহ্.. জানো না?
তাহলে নিবিষ্ট হও আমারই মতো 
শোনো এই  আগন্তুক পবনের গান
নীলিমা হলো সেই সুর,  বেলোয়ারির সেই গুঞ্জন 
যে ডুকরে ওঠে বেদনায়, নিবিড় এই নির্জনতার গায়
নীলিমা হলো
রাতভর শিশিরের সাথে মমতার গল্প শেষে 
ঊষার উদ্যানে, ভেজা দৃষ্টির এক ক্রিসান্থিমাম  

বলে যাও

নীলিমা হলো অরণ্যের বিহ্বলতা নিয়ে গভীর দু’চোখ 
যে কেবলই টেনে নেয় এই হৃদয়ের আদিম নগর
নীলিমা হলো অভিধানের এক খোলা পাতা
তবু দূর্বোধ্য অতি
অচেনা তাম্র লিপিতে যার  ভালোবাসা নদী হয়ে বয়

থামলে কেন?

নীলিমা হলো 
থর-থর অধর যুগলে জমানো তান্ডব, অব্যক্ত অধীর
শুষে নিয়ে যায় জীবনের সব আরাধ্য পাপ
নীলিমা হলো 
মাধবী মন্ডপে চন্দ্র ছাওয়া ফাল্গুনী রাত
বুকের আগুনে যার উর্বশী মৈথুনের থাকে ডাক

তোমার কন্ঠে বিষাদ, তারপর কি হলো?

আমার প্রথম শত্রু যে কেবল আমারই হৃদয়, নক্ষত্র 
জীবনটা সারাজীবন যে এক অসময়ের বেলা!

তাহলে নীলিমা হলো আমারই মতো, দূর থেকে কাছে?
কেন ভালোবাসো নীলিমাকে?

নীলিমাকে যে কেবল ভালোই বাসতে হয় নক্ষত্র, পেতে নেই 
নীলিমার ভালোবাসা তো শুধু হৃদয়কে কাঁদাবার
নীলিমা তো শুধু সত্তার গহীন স্রোতে এক শুদ্ধতার সুর

বিপন্ন চেতনায়, আমি যে নিত্য শুনি 
তার কন্ঠ ভেজা ডাক ভেসে আসে অজস্র কুয়াশায় 
পৌষের ঝরা পাতার মর্মর সুরে
মর্তের মায়া কুঞ্জে সে যে আসে অচেনা প্রেম নিয়ে
ভালোবাসে, বসে পাশাপাশি, নিমগ্ন বুকের সবটুকু উষ্ণতা খুলে

নীলিমা কি তাহলে তোমার এক ভ্রম?

তুমি বুঝবে না নক্ষত্র, এ যে মানবের প্রেম 
নীলিমা যে এমনই 
সে তো কোন আলোর ছায়া নয়
এই হৃদয়ে 
সে যে আঁধারেই শুধু তার অস্তিত্ব খুঁজে পায়।।

ফরিদ তালুকদার । টরন্টো, কানাডা