অটোয়া, বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর, ২০১৯
হেমন্তের চারটি কবিতা -মানিক বৈরাগী

বুনো জীবন চাই
আমার কোন মাথা নেই
কোন মাথা ব্যথাও নেই
মাথা নেই  তাই আখের  নেই
মাথা নেই তাই  চাওয়া-পাওয়া নেই
মাথা নেই তাতে কি হয়েছে
আস্ত দেহ কান্ডের পরতে ক্ষতের চিহ্ন
সেই চিহ্ন নিরবে বয়ে বেড়ায় জীবন

মাথা হীন একটি বুনো জীবন পেতাম
বেদন যাতনার যন্ত্রণা বইতে হতোনা।
১৮কার্তিক ১৪২৬
৩নভেম্বর ০১৯

পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম
রাত্রির সাথে বেদনার পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমের সম্পর্ক
এ সম্পর্কে উত্তাপ ছড়ায় জ্বর
পত্র আদান-প্রদান করে উচ্চরক্তচাপ
কামুক এই উত্তেজক সম্পর্কে পরিপূর্নতা দেয় ডায়বেটিস
রাতের গভীরে তাদের সঙ্গমে গোঙাতে থাকি মা মা করে
আমি মাকে ডাকি— মা, বাঁচাও বাঁচাও বলে
আমি আমার বইপড়ুয়া বাপকে ডাকি—বাবা, তোমার বই রাখো
আমার স্বপ্নে রংবেরঙের সাপ এসে ফনা তোলে
আমার স্বপ্নে দেবী মনসা বহুরূপে সাজে, মন ভোলায়
ঘুমের ঘোরে গোঙাতে গোঙাতে সুবর্ণা মনসার পিছু হাঁটি
আমার পা জড়িয়ে ধরে, কেঁদে কেঁদে ডাকে ধূসর বেহুলা
সাধনসাধু লখিন্দর যেও না তার সাথে, ফিরে এসো এই অশত্থতলে
এভাবেই শীতের দীর্ঘতম রাতের দৈর্ঘ্য বাড়ে, আমি গোঙাতে থাকি
আমার কপালে জলপট্টি রাখে, কপোলে ঝরে বেহুলার অশ্রু কমল
আজান ভাসে সুদূর গগন হতে, সর্পরানি মনসা দলে দলে পালায়
সরস্বতী বেহুলার পাশে বসে স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
১৯ কার্তিক ১৪২৬
৪নভেম্বর ০১৯

হৈমন্তী জোসনা দেখবো
অ হেমন্তের তারাভরা আকাশ
ইলশে মেঘের গুচ্ছ গুচ্ছ তারা  কেন আসো উঁকি দাও বাতায়নে
রেশমি কোমল বাতাস জিরজির বাও

হেমন্তের তারকা খচিত মিষ্টি রাত
যেনো এক একটি একাত্তরময় অভিশাপ
প্রতিটি রাতের ভয়ংকর রুপ করুণ যন্ত্রনার
বাতাসে ভাসে হাস্নাহেনার বিষাদ সুরভি
তনুমনে শোণিতের রন্দ্রে রন্দ্রে বেদনা বয়

হেমন্তের উলুধ্বনি বিলে খামারিরা দান কাটে
আকাশের তলে জোছনার প্লাবনে মনের সুখে
গীতগায় কৃষাণ কৃষাণী
হৈমন্তী জোছনার যৈবতী তারার মেলা দেখবো বলে
অসাড় বিছানায় কাতরাই ব্যাথা বেদনার যন্ত্রনায়।
২০কার্তিক ১৪২৬
৫নভেম্বর ০১৯

হৈমন্তী
হৈমন্তী তোর তারাভরা যৈবতী জোসনা দেখবো
অ আকাশ আমায় বাতাস করে উড়িয়ে নাও
মানিক বৈরাগী । চট্টগ্রাম 
২১কার্তিক ১৪২৫
৬নভেম্বর ০১৯