অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
অসমাপ্ত - ফরিদ তালুকদার

ন্তব্য নেই..
বেশ আছি আমি..,
গন্তব্যহীন এক জীবনের যাত্রায়..

হিজলের বনে অপরাহ্ন রদ্দুরের নকশীকাঁথা দেখে,
হৃদয়ের ক্যানভাস পেতে বসেছিলাম একদিন
ছবি আঁকবো।
শুরুটা খারাপ ছিলো না মোটেই..
কিন্তু..?
আজও সেখানে মেঘ-রদ্দুরের খেলায় নকশীর বিনুনি হয়, 
সংগীহীন ঘুঘু সাথীরে ডেকে যায় নিরন্তর..
অথচ..,
আমার ক্যানভাসে আর একটিও তুলির আঁচড় পড়ে নি..!

ডুবুরির পোশাক পড়ে প্রতিদিন ভাবতাম, 
তোর চোখের দীঘিতে ডুব দিয়ে, 
সেখানে জমে থাকা শঙ্কা, ভালোবাসা, বেদনা আর..
উদাসীনতার মতো হীরে জহরত গুলো তুলে আনবো সব
তারপর..,  
এই কবিতার দেহে বসিয়ে বসিয়ে একদিন.., 
পড়িয়ে দেবো তোর গলায়।
কিন্তু.., 
প্রতিদিন আমি যে সেখানে কেবল সাতার কেটেই ক্লান্ত হয়ে যেতাম। 
তুই তো আর নেই এখন..! 
তাই মুক্তো বিন্দু খোঁজার আর ইচ্ছে হয় না
ফেলে দিয়েছি ডুবুরির বেশ..! 
তবে আগের মতোই.., 
প্রতিদিন এখনও আমি সেখানে সাতার কাটি। 
কি করবো বল..? 
এই একটা দীঘিই যে আমি চিনেছি সারাজীবন..! 

ভাসতে ভাসতে মেঘ ও তো একদিন খুঁজে পায় তার ঠিকানা 
মিটিয়ে দেয় চৌচির ক্ষেতের তৃষ্ণা
অথচ.., 
আমার সবকিছুই কেমন যেন মাঝপথে এসে…? 
এই লেখাটাও যেমন.., 
ভেবেছিলাম প্রতিটা শব্দ হেঁটে হেঁটে পৌঁছে যাবে 
অর্থহীন এই জীবন আর কষ্ট সুরঙ্গের শেষ অবধি.. 
কিন্তু তা না হয়ে.., 
থেমে গেলো শেষ স্তবকের অনেক অনেক আগেই..! 
ঠিক আমাদের…..!?

ফরিদ তালুকদার। টরন্টো, কানাডা