অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
নিষিদ্ধ যাত্রা - মুহাঃ হাবিবুর রহমান

ই মাত্র একটি সময়ের যবনিকাপাত হলো এবং না চাইলেও কিছু কিছু প্রাণের নির্ঘাত মৃত্যু 
কন্ঠনালীর সীমানা পার হয়ে উত্তরের দিকে চলে যাবে বলে প্রস্তুতি নিয়ে-
নিরুদ্দেশ যাত্রায় দস্তখত করে মিলে মিশে একাকার দৃষ্টির শেষ প্রান্তে,
সময়ের খেয়ায় পার হয়ে প্রিয়জনের মুখ, নিরুত্তাপ ভাবনার করিডোর ছেড়ে মনের সব ইচ্ছ গুলো-
বাসা বাঁধবে কদবেলের সবচেয়ে উঁচু ডালের ডগায়,
কখনো নিঃশেষিত আকাঙ্খার অবশিষ্ট অংশ আমাকে পোড়াবে যন্ত্রনায়- সে কথা ভাবতে চাইনা আর কোন দিন।
ক্ষণিক আগে যে বাতাস ছুঁয়ে গেছে উন্মত্ত চুলের ঢেউ-অথবা পলাশের রক্তিম লালিমা,
মোহনার কাছে হারিয়ে যাওয়া ইচ্ছের তরী,
শীত শেষে পাতা ঝরা বসন্তের লীলায়িত জীবনের আহবান
কোথায় কোন সুদূরে প্রাপ্তির আশ্বাস? অবশিষ্ট চিন্তার মাঝে কোন খেদ নেই-
প্রকৃতির কাছে যেমন কোন অভিযোগ থাকেনা তাই
চৈত্রের দিনে উত্তরের বাতাস বহে, চারিদিকে মৃত্যুর মিছিল
রোগ-বালাই, অশান্তির দাবানলে পোড়ে সবুজের সমারোহ,
বিধাতা এবার তোমার শান্তি সিক্ত কৃপা দৃষ্টি প্রার্থনা করি। 
আমাদের যাত্রা ভন্ডুল হলে জীবনের লক্ষ্য বিচ্যুত সুদূরের পথিক কোথায় দাঁড়াবে অবশেষ?
দিনশেষে আঁধারের ঝাপি বৃক্ষের শরীর ঢাকে নির্লজ্জের মতো,
বাস্তবতা এমনই হয়-অবরুদ্ধ শহর বা দেশের ন্যায় বিচ্ছিন্ন হয় যোগাযোগ,
কোটি কোটি চোখের পাতায় নামে নীরবতা- স্তব্ধ কন্ঠের আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। 
তখন সকল গমন হয় নিষিদ্ধ যাত্রার মতো নিভৃতে।
শত দিনের স্মৃতি বিস্মৃতি হয়ে পড়ে থাকে পিছনের পথে
অবারিত মাঠ অনন্ত কালের মেঠ পথ সংকির্ন সুড়ঙ্গের রুপে অলিগলি,
তবুও মানুষ বাঁচে বেঁচে থাকতে হয় পৃথিবীর সব জ¦রা ব্যাধিকে জয় করে। 
জন্ম নিয়ে আজন্ম ঠেলাঠেলি-ঠোকাঠুকি জয় পরাজয়ের স্বাদ- না চাইতেও তিক্ত অভিজ্ঞতা আকন্ঠ পান হেমলকের মতো।
প্রিয় জনের সাথে বাঁচার আকাংখায় শত বাঁধা উপেক্ষা করে মানুষ ঘরে ফেরে 
নাড়ির টান যেন অনাদীকালের গ্রথিত সম্পদ-অবিচ্ছিন্ন রক্তের বাঁধন,
সেই জানে যে হারিয়েছে প্রিয় মুখ অথবা ভালোবাসা..............।

মুহাঃ হাবিবুর রহমান। নওয়াবেঁকী শ্যামনগর, সাতক্ষীরা