বেলাল উদ্দিন-র দু’টি কবিতা
পরিণতি নয় ধ্বংসস্তুপে
অদৃশ্য ভাইরাসের কবলে মানবজাতি,
চারদিকে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা,
সবাই আছে আপন আঙিনায় নিভৃত মনে,
ভাবছে আগত দিনে শুনবে আশার বাণী।
দিন যায়, রাত ফুরায় নেই কোন সুরাহা,
বিধি নিষেধের খড়গে পিষ্ট খেটে খাওয়া অভাবীজন,
সারাক্ষণ চেয়ে আছে আসবে কি শুভক্ষণ,
মৃত্যুর মিছিল থামছে না প্রান্তহীন ভুবনে,
জানিনা কবে যে হবে সমস্যার নিরসন।
ফেসবুকের সুবাদে শুনি ইউরেকার প্রলাপ,
বিজ্ঞানীরা বলছে কুল কিনারা পাচ্ছি না,
করছিতো চেষ্টা অবিরাম, অবিচল,
বলছে শুধু সচেতন হও গৃহবন্দীত্বে।
সাম্রাজ্যবাদীরা দোষারোপ করছে একে অপরেরে,
ভেবেছিলো হবে না কিছু মোদের,
আছে তো অসীম শক্তি, করবো জয় নিমিষে,
দেখছে এখন পরাজয় সময়ের গতিতে।
ত্রান চাই, খাবার চাই চিৎকার বেসুমার,
হচ্ছে সরবরাহ বাস্তব সমাচার,
চোরেরা করছে গুদামজাত ভাবছে আপনার,
কী আজব চরিত্র ওদের,
খাই খাই স্বভাব চৌদ্দ গোষ্টী তার।
ত্রাণ নিতে আসে একজন,
ছবি সেশন করে ডজনে ডজন,
আপলোড করে জানায় সর্বজনে,
বুঝতে চায় না সামাজিক দূরত্ব কতযে প্রয়োজন।
ভাবছে নাযে এর নাম মহামারী,
দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে মানবের সভ্যতাকে,
ভাবছে না আছেন যে এক বিশ্ববিধাতা,
দেখছেন সব দৃষ্টির অন্তরালে।
হবে একদিন সাঙ্গ মহামারীর প্রলয়োল্লাস,
শান্ত হবে বিশ্বভুবন আবার জাগিবে প্রাণে উচ্ছাস,
নতুন রুপে, নতুন আঙিকে সাজাবে দৈনন্দিন জীবন,
সচেতনতায় আসবে কোলাহল,
বাড়বে চেতনা নবতর সাজে উল্লাসে,
মৃতের ধ্বংস্থুপ পেছনে ফেলে।
হে সৃষ্টিকর্তা ক্ষমা করো,
মোরা অসহায় অদৃশ্যতায়,
থামাও মানব ধবংসের এ লীলা,
ফিরিয়ে তোমার অরণ্যের মেলায়,
নিও না মোদের ধ্বংসস্থুপে।
অবরুদ্ধ
শুনশান নীরবতা চারদিকে,
নেই কোন বাকশক্তি শুধাবার,
নেই কোন আবেগ উচ্ছাস সবই অব্যক্ত।
তটিনীর বুকে কে নিয়ে এল এ হাল,
ভেবেও পায় না কূল সবাই দিশেহারা,
আসছে নব নব ঘোষণা থাক গৃহে অন্তরীণ।
ডানে বামে সামনে পেছনে চলছে মাতম আর হাহাকার,
কবে যে হবে উদ্ভূত পরিবেশ নিরাকার,
সবাই বলে ঘরে থাকো, বন্দী থাকো এর চে বেশি কিছু নেই।
উহান থেকে রোম, রোম থেকে সুদুর আমেরিকা,
এশিয়া থেকে আফ্রিকা আর অষ্ট্রেলিয়া, ল্যাটিন ভূখন্ড,
কেউ কী আর মুক্ত, সবই অন্তর্ভূক্ত অশরীরি তান্ডবে।
কুল নেই কিনার নেই অসীম যাত্রায় চলছে তরী,
ভিড়বে কবে সেক্ষন আসতে অনেক দেরী,
বিশ্বমোড়লদের ওলটপালট ভাবনা ফেলেছে সংকটে।
সিদ্ধান্তহীন অচলয়াতন বৃত্তে বন্দী সবাই,
আবোল তাবোল বলে ফেলছে বিড়ম্বনায় মানবকুল,
শক্তির মদমত্ততা যেন অসার।
আধিপত্যবাদের প্রসার হলো খোলসবন্দী,
মহামারী তোদের করলো নজরবন্দী,
চেয়ে আছো আকাশপানে যদি হয় সুরাহা,
মুক্তি পাবে মানবসভ্যতা আবার এ ধরায়।
নতুন ধ্যানধারণায় সৃজন হবে আগামীর স্বপ্ন,
মুছে যাবে পেছনের গ্লানি,
বেঁচে থাকার প্রত্যয়ে আগত দিন,
রচিবে নানা পরিক্রমা অস্তিত্বের ঠিকানায়।
হে মহাপ্রভূ------,
আকুতি জানাই তোমার তরে,
মুক্ত করো মানব সন্তানেরে কৃপায়,
আমরা সবাই অবরুদ্ধ।
বেলাল উদ্দিন । সিলেট, বাংলাদেশ
-
ছড়া ও কবিতা
-
14-04-2020
-
-