অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
চলো যাই পৃথিবীর কাছে - মৈত্রেয়ী সিংহরায়

লো কয়েকজন মিলে পৃথিবীর কাছে যাই
গিয়ে বলি, মানুষ যুদ্ধে হেরে গেছে,
তার শরীর থেকে প্রাণপাখি উড়ে গেছে,
শীর্ণ চেহারা, দুর্বল....
চোখ খোলা, রাতে ঘুম নেই চোখে,
ঠান্ডা হাত, জ্বালা মরে না জলে,
ক্লান্ত ও বিষণ্ণ মুখ....
জীবনের সব শান্তি যেন কেউ কেড়ে
নিয়েছে,
বাতাসে মিশে আছে হতাশা, দীর্ঘশ্বাস।
আকাশ জুড়ে হাজার শিশুর
উচ্চরোল কান্না।
অন্ধকার, ক্রমে অন্ধকার আরও
ঘনিয়ে আসছে,
পরাজিত সৈনিকের মতো একটা গাছে
হেলান দিয়ে, সে আজ নতুন করে
পৃথিবীর স্পর্শ চাইছে।
একবার চাকাটাকে নামিয়ে দাও
কান্না অনেক জমেছে,
হাহাকার অনেক বেড়েছে.....

কথা দিচ্ছি, 
যে ময়ূরটা নাচ দেখাচ্ছে,
যে হরিণ শাবকগুলো ছোটাছুটি করছে,
যে কচ্ছপটা নির্ভয়ে ডিম পাড়ছে,
যে ডলফিন সমুদ্রতটে খেলা করছে,
যে হারিয়ে যাওয়া টুনটুনি আবার এ গাছ 
থেকে ও গাছে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে
তারা আবার আমাদের প্রতিবেশী হবে।
তুমি আর একবার ঝকমকে চাঁদটাকে
নারকেল গাছের মাথায় দাঁড় করিয়ে দাও।
তারপর অনেক রাতে, সবাই ঘুমিয়ে পড়লে
নতুন তারার কাছে গিয়ে বলবো
দিনের শেষে আমি তোমার কাছেই 
ফিরবো।

পৃথিবীর চোখের জল‍ও আর ফুরোচ্ছে না
বুক ফালাফালা,
চোখে ভীষণ অশ্রুধারা,
মনে অবিশ্বাসের কালো জল।
সে জানে পৃথিবীর স্পর্শ পেলে
আবার আমরা ভুলে যাব,
আমরা ভুলে যাই
আমাদের ক্লান্তি, বেদনাগুলো।
একটা দিন থেকে আরেকটা দিন গড়াতে,
আমরা ভুলে যাব কথা দিয়েছিলাম
পৃথিবী তোমায় নতুন করে সাজাবো।

পৃথিবী শান্ত হলে
আগামীকাল ভোরেই আমরা আবার চলে যাব কেউ পূবে, কেউ পশ্চিমে....
ঝড় বাদলের এই তুমুল রাত্রির কথা ভুলে।

মৈত্রেয়ী সিংহরায়। মেমোরি, বর্ধমান