অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
বুড়ো গোলাপ - রহমান মাজিদ

ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়ে উঠোন ঝাঁট দিতেন
অতঃপর তাঁতে বসে তবন বুনতেন এক মা
মেঘের পেট ফেটে ভূমিষ্ট হতো তখন নবজাতক সূর্য
যেন ডিম থেকে বের হলো তুলতুলে মুরগির ছানা

পথের সাথে পথের সংযোগ দীর্ঘ করে গন্তব্য
পশ্চাৎদেশে স্থাপিত সুতোর গুদাম নিয়ে মাকড়সা
বিস্তার করে কাঙ্ক্ষিত আগামীর নিরাপদ টানেল 
মাকুর সাথে মসৃণ সুতোর আঁত জুড়ে
মুখপাতের উপর ক্রমাগত এঁকে যায় সেই মা
প্রত্যাশিত একটি নতুন সূর্যদয়
কলাগাছের মাঝপাতার নরম ডাঁটা চুঁয়ে নেমে আসা বাতাসের টুকরোগুলো রাবারডিউজ বলের মতো
ছড়িয়ে পড়ে তখন তার কুঞ্চিত কেশ কোমল কান্তিতে
অতঃপর বুনিত স্বপ্নের প্রান্ত বেঁধে দ্যায় অর্জুন শাখে
বাতাসের হলকায় দুলতে থাকে সেই স্বপ্নের স্বপ্ন 
যেন মায়ের বিয়ের লাল পেড়ে শাড়ির আঁচল ছিড়ে
ঘরের মটকায় উড়িয়ে দিয়েছে কৌতূহলী কিশোর

বৃদ্ধের বাজার থেকে ফেরার সময় নিকটবর্তী হলে
চেরাগের দম বন্ধ হয়ে আসে
বেটনের বাড়ায় বাঁধা বাজার ফেরত তবনগুলো
ফুসফুস থেকে বের করে আনে প্রলম্বিত নিশ্বাস
ঢেকে দেয় রাতের বুকে জমে থাকা তরল অন্ধকার
ভাগ্যিস তারা দু'জনই ছিল পানের পোকা
রাতের পিঠে চুন লাগিয়ে জড়িয়ে পেঁচিয়ে মুখে পুরে দিত
ছুঁড়ে মারা পিচকারি যেন গলিত সূর্য, সন্ধা নামে পশ্চিমে
এভাবেই পুনঃপুনঃ ফিরে আসতো প্রতিটি আগামীকাল

অতঃপর রুপোর চাদরে মোড়া সোনালী প্রত্যুষ
ঝরে পড়লো একদিন প্রান্তর ও সরোবর বেষ্টিত
পরিত্যক্ত এক বার্ষিক ইবাদত গাহের সম্মুখ কুঠিরে।
ততদিনে নেতিয়ে পড়েছে বিচ্ছুরিত সৌরভের উৎসমূল
আর তার জীর্ণ পাপড়ি ঝরে পড়ছে আয়ুর বেদনায়।

রহমান মাজিদ। ঢাকা, বাংলাদেশ