অলোক মিত্রের তিনটি কবিতা
প্রাচীন পুঁথিতে রাখা জৈবিক বায়োগ্রাফি
ভালোবাসার আয়ুষপাঠে
ইদানিং নিমগ্নতা নামাই,
কারণে অকারণে বিচ্ছেদ নামাই
বিষাদের জলভরা চোখের ক্যানভাসে।
বড্ড ইদানিং হয়েছি ইমোশনাল কিংবা বিষন্ন রাফখাতায় রাখি জৈবিক বায়োগ্রাফি।
একটা দাঁড়কাক উঠে দাঁড়িয়ে জানালো
সেদিনের কবিতার আসরে আমাকে সম্ভাষণ!
আসুন, আসুন কবিতার আসরে
আপনাকে সুস্বাগত, স্বাগতম!
জাপানি বিনয়ী সে অভ্যর্থনায়
আমি হতভম্ভ, দেখি যমদূত বসে আছে,
ফেলে যাওয়া রোদের তরুন ঘাসের আসরে।
কবিতা যজ্ঞ চলছে, সাথে শ্মশানের এক খন্ডকাঠ কবি বিষ্ণু দে অমিয় চক্রবর্তী আল মাহামুদ ফজল শাহবুদ্দিন শামসুল হক ভাই, অনেকেরে মুখে চিনি, নামে জানি না ..সবাই সেদিনের কবিতার আসরে।
বড্ড হয়েছি ইমোশনাল
কিংবা জড়াপাঠে ব্যাধিগ্রস্ত। ফিরে এসে
আয়ুষপাঠে কাকেদের নিমন্ত্রণ জানাই
সাত সকালে, ওদের সাথে আমার খুব ভাব
ফেলে আসা ঘাসেদের রোদে...
বিষন্নতার একটা অক্ষরবিন্যাস
করেছে রাহুগ্রস্ত, অনিয়মে নেই সন্ন্যাস
আদি মন্ত্রযপে বিষাদের এনাটমি আঁকি
বিষন্নতার দীর্ঘপথ ধরে...
ভাবনায় জীবনানন্দ দেয় ডাক,
থেকে যা কিছুটা সময় প্রকৃতির কাছাকাছি।
না হয় ঈশ্বরকে কর নজরবন্দী,
আয়ুষপাঠ নে প্রাচীন পুঁথির পৃষ্ঠা থেকে।
ভূগোলের খাতায় বিষাদের এনাটমি
তোমার উষ্ণতা আমাকে ভালোবাসা শিখিয়েছিল।
সেদিনের কবিতার আসর থেকে ফেলে আসা
শব্দ দিয়ে বিনেসূতোর মালার মতো
একটার পর একটা রাতকে সেলাই করে,
এভাবে পাড় করেছি একে শূণ্যহাতে দশটি বছর।
মুগ্ধতায় মুগ্ধতায় ভরিয়েছি দিবা নিশি।
সেদিনের বিকেলের বর্ষারা
আমাদের দেখে হেসেছিল,
কত কথা ওদের সনে, রাস্তা
আর বলেশ্বরের দুকূল ঘেঁষে
এ মুহুর্তে ওদের সকলের নাম
মনে ভাসে না, লতাগুল্ম
দু'ধার ঘেঁষে রাশি রাশি।
আমি এখনও পিয়ানোর সুরে
মোহাচ্ছন্ন কিংবা আসক্ত। মেঘে ঢাকা
মেঘেদের ভেলায় চড়ে ঘুড়ে আসি,
দেখে আসি বসন্ত বছরগুলো কেমন আছে?
তোমাকে বলা হয়নি বিগত জীবনের
ভালোবাসায় ঘাটতি ছিল কিংবা অসমাপ্ত চুম্বন।
একটা দাঁড়কাক দাঁড়িয়ে কর্কশ সুরে সুরারোপিত
করে যাচ্ছে কোকিলের সুর, তাকে আমি বললাম,
তোর কাছে কী বিচ্ছেদ আছে? দে না আমাকে।
আমি বিচ্ছেদে ছেদ করি ভালোবাসার দ্রাঘিমাংশ।
ভূগোলের খাতায় না হয় আঁকি বিষাদের এনাটমি।
বলতে পারিস, কেন এমন হয়?
গোল ভূগোলের বুকে বিচ্ছেদের বাড়াবাড়ি।
একদা জীবনানন্দের শহরে একদিন
একদা একদিন হেঁটে হেঁটে কবি হেনরি দার
হাত ধরে জীবনানন্দের শহরে ।
স্বপ্নের ওপর ভর করে, সাত সকালে কীর্তনখোলা পৌষের কুয়াশায় দু'পাখা জড়িয়ে,
ধবল মেঘ হয়ে উড়ে যাই...
ধানসিঁড়ির দিকে, নিসর্গের প্রতি অক্ষরে
কবিতার ভাঁজপত্র পড়ি, পরিশুদ্ধ নিঃশ্বাসে।
দেখি সন্ধ্যার দুকূলে পা ছুঁয়ে কবি বসে আছেন,
হাজার ফুট উঁচু থেকে দেখে মনে হচ্ছে,
ভাই আমার রেজাই হবে।
দেখি হাতে তার জমানো সন্ধ্যার বৈকালিক
মুগ্ধতা রবীন্দ্রনাথের জন্য,
সাথে কোলকাতার কবি সৌমিত দা
সেও বসে আছে নতজানু হাঁটুগেরে।
আমি কবিতার শহর ছেড়ে গাঁয়ের পথে পথে
তরুলতাপাতা, গুল্ম আর সারি সারি বৃক্ষরাজিদের
সনে কথা কই শঙ্খচিল শালিকের বেশে।
আমি হেঁটে হেঁটে নৈঋত্যের বৈভবে দেখি, প্রকৃতির কবি
রবার্ট ফ্রস্ট আর জীবনানন্দ আমার অস্থিকলায়
এ দীর্ঘপথে মিলেমিশে একাকার।
হেঁটে হেঁটে দীর্ঘক্রোশ পথ পাড়ি দিয়ে
অনুভব করছি তাদের উপস্থিতি প্রকৃতির শিলালিপিতে।
একটা দাঁড়কাকের সাথে ইদানিং
হয়তো তাই আমার খুব সখ্যতা,
যেমনি শালিকের সাথে সখা কিংবা গাঙচিল।
ওদের ডেকে বলি ওহে সখা, আমি তো কবি নই
তব দুয়ারে এসেছিস কেন? আমি তো দুখী, চিরদুখী।
আমার ভিতরের দরজায় বৃষ্টির উপবাস,
দরজার পাল্লার পর পাল্লা খুলতে খুলতে
এই কায়া দেহ মনে আমি বড়ই ক্লান্ত।
একফোটা সঞ্জীবনীর জন্য শত প্রার্থনা ঈশ্বরে....
আরো কিছুটা সময় পথে যেতে যেতে প্রাণসখা
তরুলতাপাতা, কামরাঙা জলপুকুরে মাছরাঙা
কিংবা অগোছালো দাঁড়কাক, শালিকের সাথে
কিছুটা সময় না হয় করি ভাগাভাগি ।
অলোক মিত্র। পিরোজপুর, বাংলাদেশ
-
ছড়া ও কবিতা
-
05-06-2020
-
-