তাজ ইসলাম-এর তিনটি কবিতা
নদীর অসুখ
গোলাপের পাঁপড়িতে নেমে আসা সুরভিত ভোর
বেঘোরে নিহত হয়
স্বৈরাচারী হাওয়ার হুকুমে,
বারান্দার কার্নিশে ঘুরঘুর করা চড়ুইর ঠোঁটের কোলাহলে
আর বেগুন পাতায় লাফিয়ে পড়া
টুনটুনির পায়ের স্বাধীনতায়
ঝুলতে থাকে কালো বিড়ালের জঘন্য আদেশের নির্মম তালা।
ভীতু পাতারা তখন দোলে না বাতাসে
মূঢ় ও বধির হয়ে সব সয়ে যায়
অনিয়ম, অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে কিছুই বলে না।
কিচ্ছু বলতে পারে না।
লাল শাকের পাতায় পাতায়
চঞ্চল বালিকার হাসির মত
সকালের এক টুকরো ঝিলিক মারা রোদ
পুঁইয়ের মাচায় গড়াগড়ি করা
দুপুরের তরতাজা রোদ
ঘুটঘুটে আঁধারের আজদাহা এসে
গিলে ফেলে ওদের নিজস্ব রোদ
ওরা রোদহীন হয়ে কাটায় বিবর্ণ জীবন
তবু কিছুই বলার নেই, কিচ্ছু বলার নেই।
বস্তুত বলার কোন সুযোগ নেই
হরণ করা হয়েছে যা কিছু বলার সমস্ত অধিকার।
কলকল হেসে স্বাধীন স্বভাবে সাগরের দিকে ছুটা চলা নদী
মৃত লাশ হয়ে পড়ে থাকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে
বালুচর হত্যা করে যখন নদীর স্বাধীনতা
রুদ্ধ করে খরস্রোতা নদীর গতি
যখন নিহত হয় নদীদের বাকস্বাধীনতা
বালুকণা জমে জমে গড়ে ওঠে বালুচর নদীদের বুকে
পাড়ভাঙা গান ভুলে
ঢেউ কলতান ভুলে স্রোতস্বিনী ঢলে পড়ে মৃত্যুর অসুখে।
প্রীতিভাজনেষু ভোর
একটা প্রবীণ পুকুর হও
পাখিরা শীতল জলে
সেরে নিক প্রাত্যহিক স্নান।
জ্ঞানের গভীরে ডুবে পাখি
চঞ্চু ভরে নিয়ে যাক
নৈমিত্তিক দাঁড়কিনা মাছ।
দুপুরের রৌদ্র হও
উত্তাপে সতেজ হোক
মননের সেঁতসেঁতে কুৎসিত উন্নাসিক স্বভাব।
সবুজপত্র হয়ে
মানুষের মাথার উপর
বিস্তৃত হও তুমি কোমল ছায়া।
প্রীতিভাজনেষু ভোর হও
আজানের সুরে ডাক,
হে মানুষ দ্রুত আস
মঙ্গলের পথে, কল্যাণের পথে।
ফিরে আস চির ধ্রুব
সত্য সুন্দর মহত্তের পথে।
দোয়েলের চাঞ্চল্য
পৃথিবী মুমূর্ষু
নার্সিং হাতে তাকে
সুস্হ করে তোল।
পৃথিবী বিষন্ন
প্রজাপতি ডানায়
সৌন্দর্য ছড়িয়ে দাও,
গ্লাস ভরে পান করাও
রংধনু রং।
অবসাদ ঝেড়ে ফেলে
দোয়েলের চাঞ্চল্য পাবে
আবার পৃথিবী।
বিপন্ন পৃথিবীর রুগ্ন শিয়রে
মাতৃ মমতায় এসো হে মানুষ।
দরদী কৃষক হয়ে
প্রেমের লাঙ্গল দিয়ে
বসবাস যোগ্য করে
গড় এ পৃথিবী।
ঘাসের ডগায় শিশির ফোটা প্রাণের স্পন্দনে উঠুক হেসে
মানুষের যাত্রা হোক পৃথিবীময়
মানুষেরে ভালোবেসে।
তাজ ইসলাম। ঢাকা বাংলাদেশ
-
ছড়া ও কবিতা
-
10-06-2020
-
-