অটোয়া, শনিবার ৫ এপ্রিল, ২০২৫
আত্তীকরণ - জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

চৈত্রের প্রখর রোদে একটি ফুলভরা
নিমগাছের সাথে প্রেম হয়ে গ্যালো।

যুবক ভেবে তাকে বললুম,ক্যামন আছো বন্ধু?
সে অবন্ধুর মতো তাকালো,কোনো উত্তর দিল না

থমকে গেলুম,ডালে ডালে অজস্র ফুল
ঝরে পড়ছে জল
ভাবি,ও তবে যুবতি, বললুম,ভালো আছো নিমি?
সে উত্তর দিল না,কেবল ভ্রূদুটো টম আর জেরির মতো করলো

আমি অশ্লীল ভেবেও প্রশ্নটা করি,তুমি পুরুষ না স্ত্রী?
এবার কৌতুকহেসে সে বলে, দুটোই,তুমি যেমন চাও।
এবার আমিও নীরবপ্রশ্ন রাখি তার মানে?
সে বলে,আমি ইচ্ছেপূরণ রাখাল, কৃষ্ণের মতন
তুমি রাধা হলে আমি মুরলিকানাই,
তুমি তমালিবঁধূয়া যদি আমি তবে রাই।

তখন যমুনা বহুদূর
সামনে নীলদেশ প্রত্নপ্রেতের রত্নসাম্রাজ্য।
তাকে একাধারে দুই ভেবে বলি,তুমি হায়ারোগ্লিফিক জানো?

হঠাৎ সে বুকের নরম বাকল খুলে পিরামিডের ভিতর
ডেকে নেয় কহাজার বি.সি.র ফারাও আদি র‍্যামেসেসের মমির সামনে 
রাজার কাজল আঁকা চোখের তির্যক হাসিতে
দেখি
অজস্র লিপি দুরূহ শব্দবন্ধ হয়ে দিব্য ঘুমোয়
আমি এক নিরক্ষর শিশু তার অবিশ্বাস্য দক্ষতায়
ভেঙে যায় প্রতিটি চিহ্নসংকেত প্রাঞ্জল আলোয় ফোটে
বসন্তসকাল আর দ্বাররক্ষীর তামাটে চোখের ফাঁকে পিঙ্গলা উঁকি দেয়...... 
পিরামিডে আর কোনও রহস্য নেই।

তবে  দুঃখ একটাই হাওয়ার্ড কার্টারকে জানানো  গেলো না।

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া