অমর্ত্য দত্ত-এর তিনটি কবিতা
ভ্রমণ কাহিনী
কি সুনিবীড় ছায়া মন, আহা! কি নিপুণ পল্লী শুশ্রুষা।
এই গ্রাম্য সরলতা, সুপ্রীতি অভ্যর্থনা।
বকুল গাছের তলে রাশি রাশি ফুল সমাবেশ।সেঁজুতি, তুলসিতলা, পুর্ণিমা, আলো-আলপনা।
আহা! কি দারুণ, কি নৈসর্গিক রূপ-পরগণা।
অনুপমেয় দিগন্ত, সুখ-চাষ ক্ষেত সীমাহীন।
কাঁধে বয়ে গৃহে তোলা গোছে বাঁধা লক্ষ্মীর দান।পাড়ানো ঢেঁকির তাল ছড়ায় হাওয়ায় ভেসে ভেসে.....গোয়ালে সাঁজাল ধোঁয়া, দেহাতি বাউলের গান।
আহা! কি দারুন, কি মধুর সুর-জলে স্নান।
সন্ধ্যাআরতি, ধূপ, শাঁখ, উলু, মন্ত্র, আজান।
আলপথে কিছু দূরে বয়ে গেছে স্রোত প্রবাহিনী।
বাঁশের খোঁটেতে বাঁধা ছোটো ছোটো ডিঙা ও বালাম।
পৌষে যুবক শীত, পুলি পিঠে, রেউরি সুঘ্রাণই......
হৃদয় নিয়েছি ভরে অনুভূতি, স্পর্শে, পলকে।
কাল সকালে ফিরতি পথ চলে যাবে শহরের দিকে।
রাগ-বিচ্ছেদ
অতঃপর সবুজ স্বরলিপিগুলো একে একে ঝরে পরেছিলো।
অতঃপর আমার পাঁজর ভেদ করে উঠেছিলো নিষাদ-মিনার।
সেই হারিয়ে যাওয়ার শুদ্ধ নি-র গভীরতা বোঝেনি কেউ।কোমল রেখাবে স্থায়ী ছিলো অবরোহ, দুখ-ঘরানার।
অতঃপর মধ্যমে ও ধৈবতে হয়েছিলো বিষাদী-আলাপ ।
অতঃপর গান্ধার বেয়ে নেমেছিলো আমার টাটকা টলটলে ক্ষত।
সঞ্চারী পার ক'রে যেখানে মীড় খুঁজে পাইনি সেতার।সেখানে খাম্বাজ ছিলো অন্তরা-এ, অভোগে ললিত-ও।
অতঃপর সে রাগের জঠর থেকে জন্ম নিয়েছিলো অগণন জ্বালা।
অতঃপর সে সরগম্ মিশেছিলো ব্যথার আড়ালে।
যে সুরে বাঁধা ছিলো সুখের ঠাট-কল্যাণ, তাকে ছিঁড়ে-কুঁড়ে,
যখন তুমি চলে গেলে, তুমি চলে গেলে.....
নির্বাক
তাহলে দেখলে তুমি, কি ভাবে উড়ে যায় প্রেম-স্পৃহা,
প্রীতি-স্বপ্নেরা সব একে একে.....
সাদাকালো পোশাকের গায়ে জমে থাকে
প্রাচীন দুখের পরত।
উন্মাদ জাদুকর ভুলে গেছে চোরা সিন্দুকে-রেখে দিয়ে কবেকার সোনা রঙা বিকেলের রোদ।
কাঁচা কাঁচা ভালোলাগা গুলো ডিঙাতে পারেনা
আজও দূরূহ বলয়-পাবকের ।
বন্দি পাখির মতো ডানা থেকে সুখ ছিঁড়ে ফেলে।নিজের বানানো শিকলে নিজেকেই বেঁধে রাখে
কোনো এক বোবা কারিগর।শোকের-হাপর থেকে ঝলসানো হাওয়া নিয়ে বুকে,
সাগরকে পেরোনোর চোখ তুলেছিলো কোনো এককালে -
তারপর.....
তারপর - হতাশা, তিয়াসা সব এক কোণে জড়ো করে রাখো।
চেয়ে চেয়ে দ্যাখো আর দ্যাখো....
কি ভাবে নিভে যায় দিন, কি ভাবে রাত পুড়ে যায়।
নির্বাক মৃত্যু বসে, দোলে বিষাদের আরাম কেদারায়।
অমর্ত্য দত্ত। পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
-
ছড়া ও কবিতা
-
14-06-2020
-
-