অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
দহনে ক্লান্ত শ্মশান - মুতাকাব্বির মাসুদ

হাজার বছরের পরিত্যক্ত সভ্যতা
উদ্বেগ উন্নিদ্র গুহার ভেতর গভীর তিমিরে
বনসাই যৌবনের ফসিল
নষ্ট-নোংরা জলের শরীরে অতি নষ্ট নেংটা 
পোকার সন্তরণ 

দুঃস্বপনের মতো অসভ্য সঙ্গমে লিপ্ত উড়ন্ত মৃত্যু যত
দাঁতাল বাদুড়ের বর্ণবাদী ডানায় বিষাক্ত নিসাসে
একটি পরাবাস্তব সভ্যতার অপমৃত্যু 
আমার পূর্বপুরুষের মগজে স্থাপিত নিরঙ্কুশ সভ্যতার নন্দিত যতো স্থাপনা 
বিলুপ্ত আজ হরপ্পা-মোহেনজোদারো- সিন্ধু সভ্যতা

গুহার ভেতর ক্ষুৎপীড়িত সীমাহীন নাঙ্গা মৃত্যুরা 
ভুকপিয়াসে হাজার বছরের সঞ্চিত আমার পিতৃপুরুষের জমানো সভ্যতা 
তথাকথিত শ্বেত কুষ্ঠাক্রান্ত অমার্জিত উঁচু দালানে
কিংবা সভ্যতার দীপ্তিহীন গুহার ভেতর
সাদা সাদা গেলাসে বিবর্ণ 'ওয়াইনে'র সাথে 
অনায়স গিলে খায়- যতসব রক্তপিপাসু হায়নার দল

বিপন্ন কালো দাসীর অনাঘ্রাতা শরীরের ভাঁজে
অলক্ত রসে সম্পাদিত ধ্রুপদ ভায়োলিনের মতো 
তাঁর কোমল তন্বী শরীরের উরসে
অতুল সৌরভে গৌরবে 
বাদামি-বেগুনি জীবনদায়িনী উরজ-
সভ্যতার রক্তাক্ত মিনার- ঈশ্বরের সর্বোৎকৃষ্ট শিল্প
আজ বৈশ্বিক সভ্যতার বেপর্দা করিডোরে বিমর্দিত তমস্বিনীর নির্মম-বেহায়া কাজলের আঁচলে
মৃত্যুর মতো অনায়াস হারিয়ে যায়

গুহার দুর্বিনীত মাংসাশী চোখের বারান্দায় 
উদ্ধত যতো কালবেলা
শ্বেত কপালে লালটিপ ভাঁটফুলের বন 
অদীক্ষিত যৌবনি কালো আর ধলো 
চলোর্মি চঞ্চল নন্দিত চপল প্রজাপতি
টুনটুনির মায়াবী শিসে অনুদ্বেগ-উদ্বেলিত 
মাকড়জালে বন্দি অনায়াস অনুক্ষণ 

চারদিকে আমি দেখি সভ্যতার লাশ 
কতিপয় ব্যভিচারী বিবস্ত্র শূকর টেনে নিয়ে যায় 
দহনে ক্লান্ত শ্মশানে 
গুহার ভেতর-জলের ভেতর অনিদ্র প্রহর  
চিরগত মৃত্যুর মতোই সভ্যতার ঝলসানো অন্তঃপুরে কেমন এক নর্তকী গন্ধ আসে নাকে 

তবু কেনো-জানি বুকের ভেতর 
আগুনে পোড়া বিধ্বস্ত নগর 
দহনে দহনে মৃত জীবনের তৃষ্ণা বাড়ায় 
আমার জ্বরাক্রান্ত বিপন্ন কলিজার ভেতর 
ঠিক যেখানে একঘর কৃষ্ণ-শুক্ল নিরীহ-নিঃসঙ্গ বিপন্ন
ডাহুকের বাস! 

মুতাকাব্বির মাসুদ। শ্রীমঙ্গল, বাংলাদেশ