অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
যেদিন আমারও পটল তোলা হবে - নেজাম উদ্দিন

বার মত আমারও একদিন পটল তোলা হবে
শোক সংবাদ ঘোষণা হবে মাইকে
অমুক দিবসের এতটা বাজে তমুক মারা গেছে
চারদিকে সবার কান্নার রোল, আফসোস, আহাজারি,
আরও কত কি। 

হতে পারে করোনা মহামারী কিংবা সড়ক দুর্ঘটনায়
হতে পারে আত্মহত্যার মত জঘন্য পরিণতি বা স্বাভাবিক।

তারপর! সমস্ত সংবাদমাধ্যম, অনলাইন জগতে 
শুধু আমি আর আমি, 
পরদিন ভোরে সংবাদপত্রের শিরোনাম হবে
"অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র, তমুক আর নেই"
সেদিন আমি হয়ে যাব কালজয়ী ইতিহাস।

এদিনের একক শব্দার্থে ব্যর্থতার মানদণ্ডে
ইংরেজি বিভাগে পড়ার অযোগ্য ছেলেটি,
সেদিন বিনাবাক্যে শিরোনাম হবে
চবির ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী।

জীবদ্দশায় লেখা আমার অগণিত বেনামী লেখন
সেদিন পাঠকপ্রিয়তাসহ তুখোড় মেধাসম্পন্ন 
উদীয়মান তরুণ লেখকের তকমা পাবে
আমাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার টকশো হবে।

আমার অক্কা পাওয়ার সুসংবাদ পেয়ে সেদিন
আমার প্রাক্তন প্রেমিকা দুফোটা আঁখিজল বিসর্জনে বলবে,
ইশ! সেদিন অবহেলাগুলো যদি না করতাম।
নয়ত বলবে অবশেষে হলো শেষ।

একটুখানি চিকিৎসার জন্য যে হাসপাতালের
দুয়ারে দুয়ারে কাতরায় মরেও কেউ ফিরে তাকায়নি,
আমার পটল তোলা হয়ে গেলে সে হাসপাতালই
সবার আগে দৌড়ে এসে আমার মৃত্যু সনদ লিখে দিবে।

কেউ আমার ঋনের টাকার হিসেব কষবে
কেউ আমার দোষ নিয়ে বলবে
নয়ত বা আমার সাতখুন মাফ হয়ে সমাজের চোখে
আমি হয়ে যাব এক আদর্শ ছেলে।

পাশের বাড়ির অনাহারে ভোগা গরীব মানুষকে
আড়চোখে তাকানো ধনী প্রতিবেশীটাও সেদিন বলবে
কত সৎ মানুষ ছিল, আমি অনেক সাহায্য করতাম।

মধ্যবিত্ত বাপের ছেলে পড়ালেখা করতেছে শুনে
"অমুকের ছেলে পড়ে উল্টায় পেলবে" বলে
সমাজের যে মানুষগুলো তিরস্কার করেছিল
সেদিন তারাও নিজের অজান্তে স্বীকার করে বসবে
বেঁচে থাকলে ছেলেটা ভবিষ্যতে অনেক বড় হত।

একদিন আমাকে নিয়ে এতসব সত্য হবে
আমিও সনামধন্য, বিখ্যাত হব, একরত্তি ভুল ছাড়া,
তবে শর্ত একটায়,
যেদিন আমারও পটল তোলা হবে।
কারণ এই সমাজটা মৃতের,
যুগে যুগে বিখ্যাত হয়ে আছেন তারা
মরে পঁচে গিয়ে কবরে শায়িত যারা।

নেজাম উদ্দিন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়