অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
দীর্ঘ হচ্ছে কাফেলা - মোহাম্মদ হোসাইন

দ্বিধা নিয়ে বসে আছে মানুষ
পাশে দীর্ঘতর রাত, দ্বন্ধ ও দ্বিধা, দূরতম ছায়ার বিলাপ...

চারপাশে ঘোট পাকানো নীরবতা
নিয়ত গ্রন্থী ছিঁড়ে উড়ে যায় বুকের হরফ
দ্রুত ধাবমান খুর , সাদা ঘোড়ার কেশর 

চুম্বনগুলো ছড়িয়ে দিয়েছে আকাশ
বৃষ্টির কণাগুলো আবির, জলেরকাব্য, জন্মবীজ
আমি সেই বীজ থেকে উদ্ভূত উদ্ভিদ

যারা পূর্বে  এসেছিল
আর যারা এসেছিল পরে
তারাই একেএকে মিলিয়েছে গলা
তারাই সারিসারি কদম ফেলেছে
গান হয়ে, সুর হয়ে মিশে গেছে সবখানে

এ এক আশ্চর্য মিছিল
হুটহাট ফেলে দিয়ে ঝাঁপি -সাদা কাপড়ে এসে বলছে 'যাই'
অথচ, তাদের যাওয়ার কথা ছিল না
আরও কিছুদিন শস্য ও সম্ভাবনা হয়ে থেকে যাওয়ার কথা ছিল...

পূর্ব কিংবা পশ্চিম
উত্তর কিংবা দক্ষিণ, সবখানে আজ একই আওয়াজ, একই প্রতিধ্বনি

দীর্ঘ হচ্ছে কাফেলা!

দীর্ঘ হচ্ছে যাত্রা!

প্রশ্নের সারিসারি মেঘ আজ
কড়া নেড়ে যায় বোধাতীত
সমস্ত শক্তি, ক্ষমতা ক্ষয় হয়ে যায় পৃথিবীর পরিখায়, গলিত ঢালুর লাভায়

অগম্য মানুষেরা চিরদিন ভয় পায়
ভয় পায় অসীম আলো
বিস্ফারিত শব্দের নিটোল মাহাত্ম্য

একদিন অন্ধকার জ্বালাতে জ্বালাতে
চিরায়ত বিষাদের বিরুদ্ধে যেতে যেতে
নিরঙ্কুশ সত্যের সামনে খাপখোলা তলোয়ার হাতে দাঁড়িয়ে যাব নিশ্চয়ই
তখন ছাই থেকে, উদগত স্ফুলিঙ্গ থেকে

তারারা স্বরলিপি হয়ে ছড়িয়ে পড়বে দিক থেকে দিগন্তে...

পৃথিবী নামক
যে গ্রন্থটি পড়ার জন্যে উন্মুখ হয়ে আছি
সেটি আজও পড়ে ওঠতে পারিনি
প্রকৃত উদ্ধার করতে পারিনি তার মর্মার্থ

অথচ, নদী এসে, পাহাড় এসে প্রতিদিন কত গল্প শুনিয়ে যায় শিয়রে বসে
আমি তার কিছুই মনে রাখতে পারিনি, পারিনা...

যে সংগ্রামটা আমি করে চলেছি আমারই বিরুদ্ধে
তা আজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেল
রয়ে গেল অধরা, অহমজাত

অথচ, যে বারুদ আমি নিয়ে এসেছিলাম
আর যে স্ফুলিঙ্গ আমি জ্বালাতে চেয়েছিলাম, তা আজ ক্ষীয়মান, অবলুপ্ত
উপত্যকা...

তাই দীর্ঘ হচ্ছে কাফেলা
দীর্ঘ হচ্ছে সারি সারি গাছ, সারি সারি মৃতের হুলিয়া...

মোহাম্মদ হোসাইন। সিলেট, বাংলাদেশ