অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
সমুদ্রের স্বাদ - ফজলুল হক সৈকত

দীগুলো সব মরে যাচ্ছে- জেগে উঠছে অসীম সাগর
স্মৃতিরা সেই কবে চলে গেছে নদীরও ওপারে
এখন শুধু ভেসে ওঠে ভবিষ্যৎ
এলেবেলে কল্পনায় ভর করে চাঁদের কালিমা
‘ইলিশ মাছের তিরিশ কাঁটা, বোয়াল মাছের দাঁড়ি’- এইসব
গল্প এখন আর কাউকে শুনতে হয় না
দেখতে হয় না ভয়ার্ত চোখে আত্রাই নদীতে শুশুকের উঁকি-ঝুঁকি
বানের পানির সাথে কচুরিপানার সাথে মরা মানুষের
ফুলে-ওঠা দেহের সাথে মিশে আছে চিরচেনা পাথার ও
আমানুল্লা কাকাদের বাড়ি
আজদিঘা হাট থেকে ‘কৈ’ মাছ কিনে ফেরার সময় রাস্তায়
দাদার প্রশ্নের জবাব বারবার দিলেও- ‘কস না ক্যা, ক’
শুনতে হবে না আর- এও জানা সমাচার।

‘সব তো নিয়ে নিলে’- প্রকৃতির কাছে এই অভিযোগ তোলে 
প্রকৃতির সন্তান
কোলে তুলে নিয়ে যতই আদর করুক পাবে না শান্তি-
তুলতুলে পাহাড় কিংবা হাইব্রিড কদবেলগুলো বড় বেশি
জ্বালাতন করে ইদানীং

‘নদীর দুঃখ নদীই জানে ভালো’- তাই যদি হবে, তবে
কেন সমুদ্র এত বড়ো?
কেন তবে নারীর কোমর আর সমুদ্রের কিনারা এক হয়ে যায় 
ঘোরতর বিকেলবেলায়?
নদীগুলো সত্যিই মরে যাচ্ছে-
মরা মানুষেরা এখন আর নদীতে নয়- ভেসে ওঠে নর্দমায় কিংবা
কোনো চোরাড্রেনে।

একবার একটা ডেডবডি ঠোঁটে হাজার বছরের ক্লান্তি মেখে নদীতে
কচুরিগোছার ভিড়ে হারিয়ে যেতে গিয়ে দেখে তার তামাশা
ধরা পড়ে গেছে। সেই থেকে নদীর দুঃখ মোহনায় গিয়ে
প্রার্থনার হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছে
সমুদ্রের ফোঁটা ফোঁটা জলে ক্লান্তির জিব ভেজাবে বলে।

ফজলুল হক সৈকত
ঢাকা, বাংলাদেশ।