আমি তার নাম বলতে চাই না - ফজলুল হক সৈকত
একবার, যৌবনের প্রথমপ্রহরের দিকে হবে
একজনকে বলেছিলাম: ‘আমি ইংরেজি পড়বো’। - শুনে
সে বলেছিল: ‘তুই পড়বি ইংরেজি? পারবি না।’
সকালবেলার রোদ্দুরের মতো তার কথাকে সত্য ভেবেছিলাম
এখানে, আমি তার নাম বলতে চাই না।
একবার, তখনো চন্দ্রকলার মাঠে কিংবা স্কুলের পাশের রাস্তায়
বীরেনের মেজ ছেলে ফেরি করে ফিরতো বোম্বাই বুট
একজন বলেছিল: ‘আমরা তিনবন্ধু এখন থেকে ডানহাতে ঘড়ি পড়বো -
যতদিন বাঁচি এক থাকবো আমরা।’
বুট দাঁতে চেপে আমরা বাম হাত থেকে ডান হাতে জুড়েছিলাম
কালো কালারের ক্যাসিও।
সেই বন্ধু তার কথা থেকে পরে সরে গিয়েছে -
এখানে, আমি তার নাম বলতে চাই না।
একবার, তখনো আমরা অন্যের গাছ থেকে পেয়ারা পেড়ে খাই
দলবেঁধে লাফঝাপ করি হোজা নদীন ভরাবুকে
নদীতে তখনো চলতো গুনটানা নৌকা
রমনারা অনায়াসে সাঁতার কেটে এপার-ওপার করতো
একজন সাধু পুরুষকে দেখেছিলাম -
কমলা খালার সাথে দেখা করার জন্য সন্ধ্যার প্রতীক্ষায় থাকতে
এখানে, আমি তার নাম বলতে চাই না।
একবার, সম্ভবত ওরহান পামুকের নোবেল পাওয়ার পরের বছর হবে
বিকেলের বিষণ্ণতাকে তখনো ওর স্যালাইন কিংবা কলেরার
টীকা নিতে দেখা যায়নি
পাখিরা তখনো ফিরছিল নিজ নিজ প্রিয়-পাখির সাথে
একজন বলেছিল: স্মৃতিসৌধের চারপাশের সমস্ত শোভা
আমার জন্য বরাদ্দ করবে -
এমনকি শহীদ মিনারে সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর
বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আমার চিরনিদ্রার ব্যবস্থা করবে
আমার মৃত্যুর অনেক আগেই তাকে স্বেচ্ছায় চাতুরিতে অবসরে যেতে দেখলাম
এখানে, আমি তার নাম বলতে চাই না।
একবার, লক্ষীপুর কিংবা মহিষবাথানে, ঠিক মনে নেই
খুব ঝড় উঠেছিল
আমান চালের গরম ভাতের সাথে লাল গোলালুর মিতালি
কিংবা দ্বন্দ্বের মতো অথবা জানালার পর্দা ছিটকে খুলে পড়ার মতো
মিনতিভরা বাতাসের ঝড়
একজনকে বলেছিলাম: ‘পাশে কেউ শুনছে না তো?’
তার বিস্ময়ভরা চোখ, শাড়ির বেশামাল আঁচল - সব মনে পড়ে
এখানে, আমি তার নাম বলতে চাই না।
একবার, শাদা শাদা মেঘেদের বদলে তখন আকাশে জায়গা করে নিয়েছে জগতের
যত্তোসব অন্ধকার - রাস্তা কেটে কেটে চারিদিকে শুরু হয়ে গেছে দোতলা সড়কের
সবুজ বাতির ভিত্তিপ্রস্তরের প্রস্তুতিপর্ব
একজনকে বলেছিলাম: ‘আপনার মতে সকলেরই কি এক মতে থাকা উচিত?’
পরিণত বয়সে মত-বদল-করা লোকটি শুধু সামান্য হেসে জানিয়েছিল:
‘তুমি থাকো তোমার অবস্থানে।’
এখানে, আমি তার নাম বলতে চাই না।
ফজলুল হক সৈকত
ঢাকা, বাংলাদেশ।
-
ছড়া ও কবিতা
-
11-07-2020
-
-