অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
প্রত্যাখ্যানের প্রতিউত্তর - ঊর্মি সরকার

নিকেত,
মনের মধ্যে আকাশসম কষ্ট পুষে; চোখের ভেতর
দীপ্ত অগ্নিস্তুপ নিয়ে; কাব্যের কিছু শুকনো শব্দে
লিখতে বসেছি আজ এই পাথুরে পৃথিবীর ব্যর্থ প্রহরগুলোতে।
শুনেছি,
জীবনের কিছু মূল্যহীন পাওয়া না পাওয়ার সমীকরণ মেলাতে মেলাতে,
আজ তুমি চৈত্রের মধ্যাহ্নের ন্যায় বিদগ্ধ, নির্বাক, শূন্য।
আচ্ছা তোমার কি মনে আছে? প্রহেলিকায় সাজানো প্রশ্নের
শেষ উত্তরে, সেদিন পূর্বাভাসহীন ঝড়ের মতোই আচমকা আঘাত
হানলে আমার হৃদপিণ্ডের ঠিক মধ্যখানে, এক নিমিষে লণ্ডভণ্ড
করে গেলে বহু বছরের সাজানো গোছানো সংসার।
কেবল বললে- “মুক্তি চাই”
ফিরে না আসা নক্ষত্রের মতোই হারিয়ে গেলাম আমিও।।
স্বপ্নের শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিলো সেদিন
মনে হচ্ছিলো পায়ের তলার মাটি দ্বিভাজিত হয়ে মৃত্তিকা
আমায় গ্রাস করে নিবে এক্ষুণি ঠিক সেখানটায় যেখানটায়
কেবলি অন্ধকার।।
কিন্তু নাহ। রেণু হেরে যায়নি সেদিন অনিকেত।
হেরে গিয়েছো তুমি, যেদিন আমার না হওয়া সংসারটা
তুলে দিয়ে ছিলে, সুস্মিতার হাতে আমারই অগোচরে
আর ভাগ্যের নির্মমতায় সুস্মিতা তোমাকে মুক্তি দিয়ে
হাত রাখলো অনিমেষের হাতে –
সূর্যের দ্বিতীয় কিরণের মতো নিজের আলোটুকু আঁকড়ে , পেছনে ফেলে
আসা বাস্তবতার লোহিত চোখের দিকে মৃদু হেসে আমি কিন্তু ঠিক
নিজেকে বলতে পেরেছিলাম অনিকেত-
কিছু শোক শক্তি হোক;
কিছু প্রত্যাখ্যানের প্রতিউত্তর হোক
“ভালোভাবে বেঁচে থাকা”।।

ঊর্মি সরকার
হালুয়াঘাট,ময়মনসিংহ।