অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
বিকাশ চন্দ'র দু’টি কবিতা

শোণিত সন্ধ্যায়
কল প্রান্ত জুড়ে পৃথিবীর গর্ভ গৃহে 
কেউ কেউ পুঁতে রাখে মড়কের বীজ, 
দিনের খর দহনে আড়ি পাতে রাতের বৃষ্টি ঝড়--
সবাই জানে নীল কণ্ঠ বিশাল অশরীরী ছাদ, 
সংকোচ হীন কত বেহিসাবি শরীর পাঞ্জা কষে ---
পথে পথে কত সহস্র পথিকের শুকনো চোখ আর প্রাণ
ভেসে আসে পাখিদের মর্ম অনুভব কান্না আর গান, 
রাজা রানীর আত্মম্ভরি প্রচার ঘোষণায় সমানে সমান। 

শ্রেণিহীন ভালোবাসা ছিঁড়ে খায় দয়াহীন লোভ---
অসহায় যন্ত্রণা বুকে চেপে মানুষের সংসারী বিলাপ, 
চোখে ভেজা ঘৃণার ছায়া কাল জানে লাল মাটি পথ 
ধরাধামের মানস পুত্র কন্যারা খোঁজে প্রশান্তি, 
তবুও নিশাচর বীভৎসতা খুবলে নেয় অস্তিত্ব সকল---
বন্ধন কালে ও পোষা থাকে মৃত্যু দোসর,
সে গ্রাম শহর বস্তী লোকালয়ে সকল জনপদে 
থাকুক না মৃত্যু মিছিল তবুও চাই উৎসব কার্নিভাল,
সকল বুকের ঘরে জমে প্রতিবাদী শব্দ কথা মুখ---
প্রতিদিন  আশা আর আনন্দ খোঁজে শোণিত সন্ধ্যায়।

স্বৈর জীবন কালে
মস্ত বাসনায় ভাসে সকল সুন্দর অভিলাষ
প্রেম আর প্রকৃতির মাটি ঘাস ফুলেদের সম্মিলন, 
সুন্দর চোখের পাতায় কুয়াশা চূর্ণ দেখে দূর্বাদলশ্যাম
বারো মাস বসন্ত কচি পাতা রোদ জানে---
শুকনো পাতার ভেতরেও  কামনা অন্তর আগামী প্রত্যয়ে। 

অবারিত রুদ্ধ যন্ত্রনা হু হু বাতাসে উড়ানি ঝড়---
ইন্দ্রিয় সকল জমাট রক্তে শরীর জানে ঠোঁটের উচ্চারণ, 
প্রতি রাত বিষণ্ণতা ফালা ফালা করে দেয় অজানা করাত---
সকল দুঃস্বপ্নের পদ্ম গন্ধ আগলে রাখে শরীরী সুগন্ধ, 
নিষ্প্রাণ সময়েও পাতাল ঘর ভেঙে জাগে শিশু কলতান। 

কাছ পিঠে ঝড় ভাঙ্গা পাখিদের তখন কি বিচিত্র উল্লাস---
অজস্র পাথর স্তূপে লাল গোলাপের মত কত শব্দ কথা, 
দুঃস্বপ্নের ছায়ারা মুখ ঢেকে বলে দ্যাখো দাঁড়িয়ে উন্নয়ন---
বিলুপ্ত অন্ন বস্ত্র বাসভূমি সাথী দূরারোগ্য দুখী যন্ত্রনা
অজস্র জীবনের পাঁজরে ভাঙ্গে স্বৈর জীবন কাল। 

বিকাশ চন্দ,
মানসভূমি, পূর্ব মেদিনীপুর, 
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।