অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
নপুংসক হিজড়া - কামরুল ইসলাম সাকী

মি হিজড়া, হিজড়া বলেই,
ধরণীতে এসে কেড়ে নিয়েছি সবার মুখের অসীম হাসি।
বিষন্নতায় ভরে দিয়েছি আমার বাবার মিষ্টি মুখটি।

আমি হিজড়া, শুধু হিজড়া বলে
পুরো পৃথিবী খুশিতে ভরেনি,
ভরেছে বিষাদের তীব্র অনলে।

আমি হিজড়া, শুধু হিজড়া বলেই হয়তো
মা তাঁর প্রসবের বেদনা ভুলতে চায়নি,
আমার মুখ খানি দেখে।
আমাকে দেখলেই তাঁর নয়নে জল আসে,
তাই তো বহুদিন ধরে আসা হয়নি মায়ের সামনে।
বহুবছর কেঁটে গেলো বাড়ির বাহিরে,
আজও আমি পা রাখতে পারিনি নিজের বাড়িতে।
আমি হিজড়া, শুধু হিজড়া বলেই হয়তো
মা ডাকার অধিকার নেই,
ভীষণ কষ্টে বুকে জড়িয়ে ধরার মত কেউ নেই,
তাই আদুরে গলায় কোথায় যাচ্ছিস,
বলার মত কেউ নেই।

আমি দেখেছি, শুধু আমি হিজড়া বলে
কি বাজে ব্যবহারটাই না করতে মায়ের সাথে?
আড়াল থেকে চেয়ে আমি, দেখতাম তোমায়
সেই বীভৎস, ভয়ংকর, কুৎসিত রুপে।

আমি হিজড়া, শুধু হিজড়া বলেই
ঠাঁই হলো না মায়ের কোলে!
ঐ যে আমাদের গ্রামে পাগলী বলে যাকে সবাই ঘৃণা করে,
সেই তাকেই ডাকি আমি মা বলে।
এর পরেও জানো বাবা, জানো মা
তোমাদের উপর আমার কোন রাগ, অভিমান, ঘৃণা কিছুই নেই,
বড্ড ভালোবাসি যে তোমাদের।

কামরুল ইসলাম সাকী 
কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা,
বাংলাদেশ।