আশুতোষ ঘোষাল-র কবিতা
পুরুষ
নিতে পারি ক্যানভাসে জমে থাকা
অমিত অন্ধকার, পুরুষের ভূমিষ্ঠ দায়ভার
বিনাযুদ্ধে অদৃষ্ট বলে আরোপিত কতবার;
কত রং ভেসে গেছে ইদানিং অথবা
আগেকার কত রং ভাসিয়ে দিয়েছি আমি―
মুখাপেক্ষী সম্পর্কের দেশে;
তবুও পুরুষ শুধু পাঁজরের হাড়
দিতে পারে বলে সক্রিয় লোভ,
মাংসের দোকানে ঝোলে বিচিত্র সম্ভোগ।
একাকী কি তুমি শুধু, মৌয়ালের ধারালো নখ
জ্যোৎস্নার আগে নজরানা চায় বলে
বাঁচিয়েছো শরীরের মধু?
আলোর রূপসী মায়া যার প্রাণ নিয়েছিল
অথবা যাদের কাছে প্রিয়তম লেগেছিল
গাঢ়তম পৌরুষ বিষ, তাদের হদিস
শুধু ঘটনামাত্র জেনে
ইতিহাস করেনি নালিশ।
চৌদ্দ হাতের চোখ ব্যবহৃত বিছানায়
মুছে রাখে সাধের বালিশ।
কোনো এক উদ্বায়ী প্রেমিকাকে
দূরভাষে তুমি ঠোঁট দিয়ে যা-যা মাপো,
চোখে চোখ রেখে ভুলে যাও নাকি সব?
চোখের কি দোষ, নিরবে সে কথা বলে
নেই মাপজোখ তবু ধরে ফেলে সব।
বোধহয় জানো না, কথার অমোঘ ফাঁদ
কথা দিয়ে কথা না-রাখাটাই রীতি,
তার থেকে ভালো দৃষ্টির স্বচ্ছতা
চোখের কুহকে নেই কোনো রাজনীতি।
দূরভাষে তাই সময়ের অপচয়,
সেখানে বধির হৃদয়ের স্পন্দন
সামনে দাঁড়াও, পরস্পরের কাছে
দৃষ্টিতে হোক প্রেমের অনুরণন।
আমাদের চাওয়া প্রতিটি আলোর কণা,
জোনাকির মতো জ্বলুক অন্ধকারে
পরিমাপে নয়, পিপাসায় ঠোঁট রাখো
তোমার ওষ্ঠ স্বর্গ দেখাতে পারে।
আশুতোষ ঘোষাল
ইন্দিরাপল্লী
পোঃ বড়বাগান
জেলাঃ বীরভূম
-
ছড়া ও কবিতা
-
25-07-2020
-
-