অভিজিৎ চক্রবর্তী-র কবিতা
নিস্তব্ধতা
নিস্তব্ধতা --- একটি অদ্ভুত অবস্থা,
কিন্তু স্থানভেদে মাহাত্ম্য কত ভিন্ন !
কী আশ্চর্য --- তাই না?
যদি প্রণয়ীর বিবাহ প্রস্তাবে তুমি নিস্তব্ধ ---
তারমানে তুমি সম্মত।
যদি নিকট আত্মীয় বিয়োগে তুমি নিস্তব্ধ –
তারমানে তুমি উদাসীন বা শোকে পাথর।
যদি আত্মীয়ের দুর্ব্যবহারে তুমি নিস্তব্ধ ---
তারমানে তুমি চিনেছ প্রকৃত মানবরূপ।
যদি প্রেমিকার বিশ্বাসঘাতকতায় তুমি নিস্তব্ধ ---
তারমানে সেটাই তোমার প্রতিবাদের ভাষা।
যদি চরম হাস্যাস্পদ হয়েও তুমি নিস্তব্ধ ---
তারমানে তুমি অপেক্ষায় আছো যোগ্য সময়ের।
যদি পৃথিবীর একান্ত দূরতম কোণে তুমি একা, নিস্তব্ধ ---
তারমানে এ জগৎ তার সৌন্দর্যে তোমার কথা কেড়েছে।
নিস্তব্ধতা মানেই সব মেনে নেওয়া নয়,
নিস্তব্ধতা কখনও নিবৃত্তিও হয়।
নিস্তব্ধতা দুর্বলতা হতে পারে না –
বরং, নিস্তব্ধতা এক অদ্ভুত শক্তি।
নিস্তব্ধতায় অনেকে সিদ্ধিলাভ করে ---
আবার, একেই অনেকে ভয় পায়।
কারণ,
সৃষ্টির আদিমতম দিনে জগৎ ছিল নিস্তব্ধ
সৃষ্টির অন্তিম মুহূর্তেও জগৎ মিলিয়ে যাবে নিস্তব্ধতায় ---
অনন্ত নিস্তব্ধতায়।।
ছুটছি ইঁদুর দৌড়
সময়ের পেছনে পেছনে আমরাও ছুটছি
হয়ত ভেবেই নিয়েছি, নিরন্তর ছুটে চলাই জীবন।
আমরা ছুটছি – অর্থ, প্রতিপত্তি, ব্যক্তি, নাম, যশের জন্য
কোথায় এ দৌড় থামাবো --- বোঝাই দায়।
মাতৃজঠরে শুরু এ ইঁদুরদৌড়, আমৃত্যু তাই চলবে।
নাঃ, শ্মশান ঘাটেও ইঁদুরদৌড়ের বহর আছে ---
“আগে এলে আগে পাবেন” – এ প্রথা সর্বত্র।
টাকাপয়সা, নাম-যশের পেছনে ছুটে দেখো ---
একদিন তা পাবে, কিছু না কিছু, নিঃসন্দেহে।
কিন্তু যে মানুষের পেছনে ছুটতে চাও
তাঁকে জীবনে না-ও পেতে পারো।
কারণ,
সে ও হয়ত ছুটে চলেছে অন্য কারো পেছনে ---
এ জগৎজুড়ে ঠিক এমনই চলছে --- নিরন্তর চক্রক্রম পদ্ধতি,
সবাই ছুটছি সবার পেছনে --- অথচ কেউ কাউকে পাইনা ---
আবার, আমরা কেউ ঘুরেও দেখব না পিছনদিকে ---
অথচ আমরা আশা রাখিঃ
আমাদের অভিপ্রেতগণ ঠিক পেছন ফিরে তাকাবেই।
তাই দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলি সতত।
কেননা, চেষ্টা করায় কোন দায় নেই
হা ঈশ্বর!
অভিজিৎ চক্রবর্তী। কলকাতা
-
ছড়া ও কবিতা
-
25-07-2020
-
-