অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
সূরজ দাশ-এর কবিতা

প্রকৃত অর্থে 
হুকাল যাইনি ঘরময় ছড়িয়ে থাকা বিষাদের কাছে
ছুঁয়ে দেখা হয়নি তোমার মনখারাপের ফেলে আসা অধ্যায়

না হয় আর কোনোদিন প্রকৃত অর্থে 
প্রাকৃতিক হয়ে ওঠা হবে না আমাদের 

কাঙ্খিত পোড়ামাটি ভেঙ্গেচুরে গড়া হবে না আর বিষ্ণুপুর 

তবু এই ভীড়ের মধ্যে  ফিরিয়ে দিয়েছো তুমি
ফেলে আসা চর্যাপদ 
শিখিয়েছ কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, মাথাউঁচু

আকাশের তারা কুড়োবার ছলে, এসো তন্নতন্ন করে 
খুঁজে দেখি ছায়াপথে ফেলে আসা সকাল

স্বপ্নের শূন্যতায় একা 
ই ভুলে ভরা আপাত শান্তির পাড়াগাঁয়
প্রতিরাতে পিছলে যায় রাততারা

এই আঁকাবাঁকা অন্ধকার আর আড়ালের
টইটুম্বুর শ্রাবণ, কত যে দুঃসাহসী

উদাস ঈশারা লিখে লিখে কিংবা না লিখেও 
জীবন পেরোবো বলে 
ধুয়েছি রাতের অলৌকিক শ্মশান

তোমাকে গেঁথেছি আজ 
রাতব্যাপি ঘটে যাওয়া 
না জানা তোমার বাদবাকী অন্ধকার

এই দেখো বুকভর্তি নিরাকার বিবেচনা 
দুলতে দুলতে তোমার বুকের কাছে 
গুটিসুটি মেরে থিতু হয়, স্বপ্নের শূন্যতায় একা 

ঘরে ফেরার পথে পা বাড়ায়
হাঁটো হাঁটো
হে ভারত, হাঁটো তুমি
সারাদিন সারারাত
রাতদিন বারোমাস

হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত তুমি
হেঁটে হেঁটে এপার ওপার
আর কত হাঁটার পর ঘরে ফেরা যায় 
হে ভারত, মেরা মহান দেশ

ঘরে ফেরার পথে পা বাড়ায় পরিযায়ী
পাখি উড়ে যায়
শক্ত অবস্থানে অনড়
রক্তচক্ষু শাসক

অসুস্থ মা আমার ঘরে
ছেলে না খেতে পেয়ে শুকিয়ে গেল
আমি তো ভুখা মানুষ
পেট ভরতে হয়েছি পরিযায়ী

বউ কাঁদছে, হে গঙ্গা, হে যমুনা মা আমার
এসো এসো, এসো  বুকে
কাঁদো কাঁদো
হে আমার শ্রমিক ভারত
হে আমার আসমুদ্র হিমাচল ভুখা দেশ

আসছিই তো, রাস্তা আটকায় ওরা
পায়ে ফোসা, রক্তাক্ত 
তবু হাঁটছি

সূরজ দাশ
বালুরঘাট, দক্ষিণ দিনাজপুর
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত