অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
সুধাংশুরঞ্জন সাহা-র দু'টি সনেট

উত্তরহীন সময়
ঠিক মাঝরাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়,
ঘুমের ঘোরেই আমি নদী পেতে চাই।
শালিখের ঠোঁট খুঁজি পলাশ ছায়ায়।
করোনার ভীতি আর ভাবনায় নাই।

হাতের মুঠোয় তবু সে এক জীবন,
একটু খানিক মাটি চাই পা ছোঁয়াতে।
জলে জলে শুধু চাই অবাধ ভ্রমণ।
পারাপার চেয়ে নদী থাকে ফেরিঘাটে।

পুড়ে যাই রোজ খুব, একান্ত গোপনে।
অবুঝ শীতের মাঠ জ্বলে তীব্র জ্বরে।
না আছে ধানের ঘ্রাণে, না-সবুজ মনে।
মনখারাপের রাত থাকে থরে থরে।

মাটির ভিতরে মাটি খোঁড়ে একা চাঁদ।
উত্তরহীন সময় প্রশ্নে প্রশ্নে মাত।

অথবা কৃষ্ণগহ্বর 
ড়ে গেছে কবুতর, উড়ে গেছে মেঘ।
কারা কারা প্রতিদ্বন্দ্বী, কারা নিরপেক্ষ?
বিতর্কে বিতর্কে আজ ঝড় মাখে বেগ।
গোপনে গোপনে কারা করে পদক্ষেপ!

একটা দুপুর যদি বিকেলের কাছে
সুরক্ষিত থেকে যদি কিছু ক্ষতি সয়,
চারিদিকে অবিরাম ফিসফাস আছে
নুড়িতে পাথরে জল কুলকুল বয়।

পুতুলনাচের কথা ইতিহাসে আছে।
জলও জানে ছলনা, ঋতুর কবলে।
সাঁঝবেলার বিষাদ  দীর্ঘশ্বাসে ভাসে।
রাত্রি বাড়তে বাড়তে ঘুমের অতলে।

নির্ঘাৎ দৌড় করাবে বাকি রাত যাকে,
অথবা কৃষ্ণগহ্বর শুষে নেবে তাকে।

সুধাংশুরঞ্জন সাহা
বেহালা, কলকাতা,
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত