অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
দু’টি কবিতা - শান্তনু দত্ত

তারপর
দি বলো, আজ আর কথা নয়, কথা নয়।
দূর আকাশের কাছে যেতে, গিয়েছি হারিয়ে।
মনে করো, আমি এক মহাজাগতিক ব্যথা।
হঠাৎ জেগেছি তোমাতে, রাতের কথা হয়ে।
দেখেছি তোমার চোখে নামহীন সভ্যতা।
 জানিনা চলেছি, কত আলোকবর্ষ পেরিয়ে।
যদি ভাবো, এখানে জীবন হলো অভিনয়
অবিনাশী পাখী হয়ে, উড়ে যেও দোল খেয়ে।

কয়েকটা সোনালী বিকেল, জীবনের হার
উপহার হয়ে, তোমার গলায় থাক পড়ে।
কয়েকটা ইঙ্গিত ছিল বার্তা বাহক,
কয়েকটা সঙ্গীত,  প্রজাপতি হয়ে ওড়ে।
যদি ঘর নাহি চাও, তবে তাই হোক।
ঝড় থেমে গেলে,  এই অসীম অন্ধকারে
ফিরে যাব ভালোবেসে, মেনে নেব হার।
ইচ্ছেরা ডানামেলে মারা যাক, বালুচরে।

যদি বৃষ্টিতে
জানি তুমি অমৃতের সন্তান।
তাহলে এত বিষ কেন তোমার মননে
সময়ের কালচক্রে, তোমার পুরু‌ষ
শরীর মেয়েদের মন নিয়ে উঠলো
জেগে, তুমি কি নারী?

নিজেকে প্রশ্ন করে দেখ, তুমি কে?
ওরা বলে, পৃথিবী আমার মা। 
ওরা কারা। তুমি জানো। ওরা বলে, 
তুমি শ্রেষ্ঠ, তুমি প্রকৃতি। আমি জানি, 
তোমাকে সাজিয়েছে পৌরষ, 
তার ভাবনায়।

দু একটি ব্যতিক্রম ছাড়া আমিও এক নারী। 
ওরা বলে, রূপান্তরকামী। 
ওরা কারা। কিসের রূপান্তর। আমি মননে 
বিশ্বাসী। ওরা বলে পৃথিবী আমার মা। 
কেন। পৃথিবী বাবা হলে কি সমস্যা। 
ওরা বলে, পুরুষ ধর্ষক। আমি জানি, তা নয়। 
ধর্ষক হলো মনন। পুরুষ ও ধর্ষিত হতে পারে।

ওরা বলেছিল সাম্যবাদ চায়। ওরা কারা। 
অথবা নারীবাদ। তাই হোক, সমস্ত তত্ত্ব 
ওরা নিয়ে থাক। আমি জানি, গৃহী গৃহস্থের
 মতো প্রেম যদি দিই, থেমে যাবে সব বিবাদ।

বৃষ্টি আসতে পারে। বৃষ্টি কেন হয়।
তুমি চাইলে আমি ছাতা হতে পারি। 
পৃথিবীতে প্রথম বৃষ্টি কবে হয়েছিল।
তুমি কি বৃষ্টি হবে? ভেজার আনন্দ 
আমি তোমার সাথে ভাগ করে নিতে পারি।

শান্তনু দত্ত। 
বাগনান, পশ্চিমবঙ্গ