অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
আধ্যাত্মিকতা ও বিজ্ঞান : ভিন্ন ও অভিন্ন বোধ - ড. রাখীবৃতা বিশ্বাস

চেতন চেতনে মিলায়
একাত্মতা হয় অভিন্ন,
বিজ্ঞান আর অধ্যাত্মবাদও একই,
মতান্তরে তা যদিও ভিন্ন ভিন্ন।

আত্মার উন্নতি সাধন
জগতের হিতকর ব্রত,
অধ্যাত্মবাদ আর বিজ্ঞান
দুইয়েরই মূলমন্ত্র এ'তো।

অমৃতের পুত্র হল মানুষ
ঈশ্বরের সর্বোৎকৃষ্ট সৃষ্টি,
বিজ্ঞানের নিরীক্ষণে এই সৃষ্টির
শুক্রাণু-ডিম্বাণুই হল কৃষ্টি।

প্রাণশক্তির উত্তরণ ঘটে
আধ্যাত্মিকতার বিকাশে,
মাইটোকন্ড্রিয়া থেকেই
আমাদের এই প্রাণশক্তি আসে।

মানবের সম্যক্ স্থিতধী দশা লাভ
অধ্যাত্মবাদের হল এই প্রধান কাজ,
পেতে যদি চাও তুমি এই অবস্থান
নিয়ন্ত্রিত হতে হবে শ্বাস আর প্রশ্বাস।

ঈড়া ও পিঙ্গলা দুই নাড়ী
সাথে আছে সুষুম্না কান্ড,
আত্মবোধ উত্তরণকালে
এদের গুরুত্ব বহুবিধ,
অধ্যাত্মবাদেতেই তা উদ্ধৃত।

বিজ্ঞানের বিশ্লেষণী আলোয়
আরো কিছু তথ্য আসে হাতে,
সিমপ্যাথেটিক, প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভ
আর স্পাইনাল কর্ডও
জুড়ে আছে এই কঠিন কাজের সাথে।

নিউরোথিওলজির গবেষণাতে প্রকাশ
অধ্যাত্মবাদে মিশে আছে
নিউরোকেমিক্যালেরও প্রভাব।

'ডোপামাইন' নামের এক 'নিউরোট্রান্সমিটার'
যার বিবর্তন ও বৃদ্ধির অনেক সমাহার,
বিমূর্ত চিন্তন ও সৃষ্টিতত্ত্বের রচনায়
অধ্যাত্মবাদ কিম্বা মহাজাগতিক বিস্ময়,
'ডোপামিনারজিক ব্রেন সিস্টেম' - এর
প্রভাব আছে অতিশয়।

এছাড়াও মস্তিষ্কের একটি অঞ্চল
'গড স্পট' নামে যার চর্চা বহুল,
আধ্যাত্মিক কর্ম ও ধারণার বিকাশে
'গড স্পট' - এরও বিশেষ ভূমিকা আছে। 

বিবিধ জনেরই আছে এহেন বিশ্বাস
আধ্যাত্মিকতার ভিত্তি বড়ই সন্দিহান,
'স্কিৎজোফ্রেনিয়া' বা 'হ্যালুসিনেশন্'
অধ্যাত্মবাদের মূলে, আসল কারণ।
অতিপ্রাকৃত অনুভূতি অথবা 'অটোস্কোপি'
'হিপোক্সিয়া' ই তার কারণ
বিজ্ঞানের ভাষায় বলে দেখি!

তাহলে কোথায় বল মিলি সবে শেষে!
বিজ্ঞান অধ্যাত্মবাদে মিলবে কি এসে?
অতলে তলিয়ে যদি দেখ একবার
এই দুইয়ের বিভেদ থাকবে না আর।

অধ্যাত্মবাদেতে সত্ত্বগুণের প্রকাশে
পরমাত্মায় প্রাণ মেশে 'সো অহম্' বোধে,
বস্তুনিষ্ঠ সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠায়
বিজ্ঞানীর চেতনাও একীভূত হয়।

অধ্যাত্মবাদীরা যখন যোগেতে বিশ্বাসী
পরীক্ষণে বিজ্ঞানীরা অবিসংবাদী।
মুদ্রার দুটি তল আছে যেমন
বিজ্ঞান ও অধ্যাত্মবাদের ধারাও তেমন,
সত্য অনুসন্ধানেই দুইয়ের বিচরণ।

আত্মমুক্তিলাভে 
অধ্যাত্মবাদের প্রয়োজন,
জগতের কল্যাণকর্মে 
বিজ্ঞানেরও নিয়োজন।
‘‘আত্মমোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ’’
এই সূত্র মেনেই,
ঈশ্বরের প্রেমিক হওয়া যায় সযতনে আর
আধ্যাত্মিকতা ও বিজ্ঞান
মিশে যায় যে মননে।

ড. রাখীবৃতা বিশ্বাস। কলকাতা