অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
আমার আমি - শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়

নে নেই তো কবে প্রথম নিজের নামটি জানি।  
ডাকলে পরে সাড়া দিয়ে নিজেকে ঠিক চিনি।
সেই চেনাটা বাড়ল বয়স বছর খানেক হয়ে।
বুঝতে শিখি আমি আমার বাবা মায়ের মেয়ে।
বাবার মতো মুখখানা ঠিক, মায়ের মতো চোখ।
দাদুর গায়ের রং পেয়েছে, বলে পাড়ার লোক।
তাঁদের আশায়, তাঁদের ভাষায়, তাঁদের নীতিজ্ঞানে। 
জীবনের পথে পেয়েছি যে দিশা, চলেছি সসম্মানে।
যখন একটু বড় হলাম, অবাক হয়ে দেখি।
আমার মধ্যে লুকিয়ে আছে কত মানুষ- এ কি !
মাতামহ, প্রপিতামহী- যাঁদের দেখিনি ধরায়।
তাঁরাও আছেন বিরাজমান আমার রক্তধারায়।
চরিত্র গড়ে দিয়েছেন যারা শিক্ষক- শিক্ষিকা ।
আমার মননে, হৃদয় গহনে তাঁদেরই যে ছবি আঁকা।
জীবনের পথে সখা-সখী সাথে কেটেছে অনেক বেলা।
হাসি- কান্নার হীরা-পান্নায় ভরেছে আমার ডালা।
সমালোচনা করে বা কেউ শুধরেছে আমাকে।
বিরোধিতা করে লড়াই করার শক্তি দিয়েছে বুকে। 
প্রিয় সহচর সাথে লয়ে মোর হেঁটেছি দীর্ঘ পথ।
আমার জীবন দর্শনে এসে মিশেছে যে তার মত।
চলার ছন্দে পরমানন্দে পিছে দেখি যবে ফিরে।
দেখি আমি নেই, এপথে সবার পায়ের চিহ্ন পড়ে।
সম্মুখে দেখি হাতছানি দেয় নতুন প্রজন্ম।
নব চেতনায় দীক্ষিত হলো প্রবীনের মর্ম।  
আয়নার দিকে তাকিয়ে যখন খুঁজেছি আমার কায়া। 
আমার আমিকে পাইনি তো খুঁজে, দেখেছি সবার ছায়া।

শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়। কলকাতা