কালের রাখাল - মহীতোষ গায়েন
তোমাকে ছেড়েই দিলাম, মুক্তি দিলাম...
তুমি ভেসে যাও বাঁধভাঙা স্রোতের মতন,
কাল্পনিক সংলাপ আর কতকাল বন্ধনে
আবদ্ধ রাখবে সমাজ সত্যের অঙ্গীকার?
তোমার দু:খ, অস্থিরতা যদি কখনো
শান্তি খুঁজে পায়, যদি কোন অবলম্বন
তোমাকে আঁকড়ে ধরে স্বর্ণলতার মত;
তোমার মধুমাসে আমি অন্তরায় হব না।
পৃথিবীর বয়স বাড়ে,বয়স বাড়ে মনের-
দিকভ্রান্ত মেষপালকের মত আমি
ঢুকে পড়েছিলাম, কালের নিয়মে আমি
দলছুট, আমি অভিশপ্ত কালের রাখাল।
অদ্ভুত সময় এখন, সময় খেলছে বৃন্ত প্রেম
রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষাক্ত বাতাসের সমারোহ,
স্রোত ঢুকে খেলা ভাঙছে, খেলা ভাঙার
খেলায় মানুষ কেমন ভীষণ মেতে উঠেছে।
বন্ধন ছিঁড়ে বেরিয়ে যেতে চাইলেই কি পারা যায়?
পারা যায় সাদা পায়রার মত ডানা মেলে নীল
আকাশে মিশে যেতে? মন উড়ে যায় চেনা জগৎ
ছেড়ে অচেনা জগতে; আমি কালের রাখাল।
বন্ধন ক্ষমশ আলগা হচ্ছে, আলগা হচ্ছে মূল্যবোধ-
সমস্যার শরশয্যায় শায়িত আমাদের বিবেক,
চরাচরে ভয়ংকর অস্থিরতা, দুর্যোগের ঘনঘটা...
তবুও গাছে ফোটে বাহারি ফুল, পাখি গায় গান।
মনমাঝি তার বৈঠা নিয়ে উত্তাল নদীতে খেয়া বায়-
উদ্ভ্রান্ত পথিক বিষাদ সূরে বাঁশি বাজায় ক্লান্তিহীন-
বাঁশির সুর ছড়িয়ে যায় গ্রাম থেকে শহর-অলিন্দে,
বন্ধন ছিন্ন হয় আর এক আরম্ভের প্রত্যাশায়।
আমি যে কালের রাখাল, বন্ধন কি আমায় বাঁধতে
পারে? আমি ছিন্ন পৃথিবীর এক অবিনশ্বর সৃষ্টি;
বন্ধন আমায় মুক্তি দিল, আমি অনাদি অনন্ত
মুক্তি দিলাম তোমাকে, আমি যে কালের রাখাল।
মহীতোষ গায়েন। কলকাতা
-
ছড়া ও কবিতা
-
05-08-2020
-
-