অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
সিঁড়ি - মোহাম্মদ আবদুর রহমান

মি সিঁড়ি
তুমি জীবনের ছাদে উঠেছ
আমার বুকের উপর দিয়ে।
কোন দিন কোন কিছু বলিনি
কেননা তোমাকে ছাদে উঠাবার জন্যই তো আমার জন্ম।
তুমি যখন হিল পায়ে দিয়ে গম গম শব্দে
আমার বুকের উপর দিয়ে হেঁটে যাও
হিলের আঘাতে হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হলেও
আনন্দে বুক ভরে যায় এই ভেবে যে
আমি পেরেছি তোমাকে উপরে উঠাতে।
অথচ তুমি জীবনে ছাদে উঠার পর 
আমাকে মনে করেছ নির্জীব পদার্থ।
কি বুঝে জীবনের হিসেব নিকেশ
তুমি মনে রাখবে প্রতিটি মাপক যন্ত্রই কিন্তু নির্জীব পদার্থ।
আর তারা প্রতিটি হিসেব নির্ভুল করে দেয়।
তাই আমি নির্জীব বস্তু হলেও
স্মৃতির পাতায় সকল হিসেব নির্ভুল ভাবে সঞ্চিত আছে।
এখনও মেরামত হয়নি হৃদয়ের ক্ষত
একমাত্র তুমিই পারবে তা মেরামত করতে
কিন্তু আমি জানি তা তুমি করবে না
কারণ তুমি ভুল করে ফেলেছ জীবনের হিসেব
তোমাকে সব কিছুই নতুন লাগে 
অচেনা মানুষ গুলিকে ভেবেছ জীবনের আশ্রয়স্থল।
হটাৎ অচেনা ঝড় এসে তোমাকে উপড়ে ফেলতে চাইলে
আমিই তোমাকে আমার বুকের উপর দিয়ে নিয়ে গিয়ে 
পৌঁছে দিব নিরাপদ ঘরে।
তুমি বার বার মিলাও জীবনের সকল হিসাব
খুঁজে বের কর জীবনের অংকের ভুল
মেরামত কর জীবনের সকল ক্ষত
হিসাব মিলিয়ে দেখ
সিঁড়ি ছাড়া জীবনের ছাদে উঠা একে বারেই অসম্ভব।

মোহাম্মদ আবদুর রহমান। মালদা