অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
মনস্বিনী - মৈত্রেয়ী সিংহরায়

রা কনফারেন্স করে
নিজেদের মতো প্রশ্নগুলো গুছিয়ে নিল,
বিকেল তিনটেয় যখন মনস্বিনী
সংসারের সব কাজ সেরে মুখে পানটি
ঠেসে বসবেন,
ওনার কাছে প্রশ্নগুলো রাখা হবে....

ক্লান্ত, শ্রান্ত কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম
আঁচল দিয়ে মুছে মুখে হাসি ছড়িয়ে
খাটের এক কোণে বসলেন মনস্বিনী,
হাতে জীবনানন্দ দাশ।
বেশ কিছুক্ষণ ঘরে নীরবতা....
ওনার ভ্রূক্ষেপ নেই কোনোদিকে
মন দিয়ে উচ্চারণ করছেন
জীবনানন্দের শব্দমালা।
নীরবতা ভেঙে ...
আচ্ছা সুক্তোয় কী মশলা দিয়েছিলেন
অপূর্ব স্বাদ হয়েছিল,
বিড়বিড় করলেন....
শব্দগুলোর এই ভর্তি দুপুরে
বুঝি ঘুম নেই,
সাত সুরে জলসা বসিয়ে দিল
কবিতার দেহে স্থান পাবার জন‍্য।

একটুও বিচলিত হলেন না
বুকের মধ্যে চতুর্দশ 
উজ্জ্বল প্রদীপ জ্বালিয়ে...
পানের রস গিলে 
শান্ত অথচ দৃঢ় উত্তর...
আমি কবিতা ভীষণ ভালোবাসি।

চতুর্দিক থেকে ঝাঁ ঝাঁ করে
এল শব্দ বাণ,
আপনি কি জানেন আপনার
এই কবিতার জন্য
অন্য কেউ একটু একটু করে
ঢুকে পড়ছেন মানসিক
অবসাদের গভীরে.....
হঠাৎ মনের মধ্যের বাতিগুলো
দপ্ করে নিভে গেল
দুই হাঁটুর মধ্যে মুখ গুঁজে
কেঁদে উঠলেন.....
মনের অলিতে গলিতে 
আঁকিবুকি কাটে
ছন্দ, অলঙ্কার, অন্ত‍্যমিল,
ঝুলি থেকে বেরিয়ে আসে
আস্ত একটা কবিতা....
'মনস্বিনীদের জন্য আজও
সমাজ প্রস্তুত নয়।'

মৈত্রেয়ী সিংহরায়
মেমোরি, বর্ধমান