অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
পার্থ সারথী চৌধুরী’র দু’টি কবিতা

মহাজীবন
মকে দাঁড়িয়েছ কেন,
হে মহাজীবন?
সামনে সুউচ্চ হিমালয়, অলঙ্ঘ?
অভেদ্য সীমাহীন নীল আকাশ?
প্রতিক্ষার সময় গোনা শেষ হয়না?

রাত যতই হোক ভোর হয়, সকাল। 
স্পুটনিক, এ্যাপেলো, লাইকা নীল আর্মস্ট্রং
অপারে হুয়াংহু মাছ মাঠ ঘাস ধান
হরপ্পা পরেই নালান্দা গৌতম অশোক
ব্যবিলন ধরেই ট্রয় রোম লন্ডন।
নীরোর বাশি এখন মহাশূন্যেই বাজে
ভূপাল চেরনোবিল এখন জীবন বিস্মৃত নয়
মহাকর্ষ উপেক্ষা করেই গাছের বীজ ভূমিতে পড়ে
অংকিত হয়, আবার মহাকর্ষের টানেই গজিয়ে উঠে। 

মুক্ত স্বাধীনতা না বন্দী সাধীনতা?
অদৃশ্য শত্রু অস্ত্রহীন শস্ত্রহীন
আর কতদিন?  কতদূর ---

সূর্য, অফুরন্ত শক্তির আধার অনন্ত
জীবন শাশ্বত, কাল সংক্ষিপ্ত বৃত্তাবদ্ধ। 

আমার স্ত্রী
মার স্ত্রী এই চল্লশোর্ধ্ব ছুঁই ছুঁই  পঞ্চাশেও বেশ আকর্ষণীয়া
পরমা সুন্দরী না হলেও তার ঠুল পড়া হাসি নজর কাড়ে সহজে
আর এ নিয়ে তার গর্ব
ভারতীয় নায়িকারা নাকি হাপিত্যেস করে এর জন্যে
দুর্ভাগ্য আমার, আমি কেবল তার ভয়ংকর সুন্দরই দেখি
ঠুল পড়া সুন্দর আমার চোখ এড়িয়ে যায় অনায়াসেই।
আমার কি দোষ?
এক বিয়ের রাতে আমি দেখেছিলাম তিলোত্তমাকে
অসংখ্য তারাকে একে একে ধরে পুঁতেছিলাম মাটিতে।
সময় নাকি ফিকে হয়ে যায় সময়ে
আমি স্মারক ধরে রেখে দিয়েছি।
ইদানীং
আমার স্মৃতিগুলো বড় দুর্বল
করোনার করুণায় কি না জানি না
বিষণ্ণতায় আলপনা আকে।
ডার্কলেডীর রহস্য তো তিনিও ভেদ করতে পারেন নাই
ভয়ংকর বলেই তো সুন্দর
আমি কোন ছার? 

পার্থ সারথী চৌধুরী
সিলেট, বাংলাদেশ