অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
মৃত্যুঞ্জয়ী কর্ণ - লাবণ্য কান্তা

ন্মাতেই কর্ণ অভিশপ্ত হলো, এই প্রথম অভিশাপ যে ___
সূর্যপুত্র কর্ণ হবে সূতপুত্র রাধেয়।
অভিশাপ এই যে, মাতৃ-হৃদয় নিয়ে বিদীর্ণ বুক
খামচে ধরবে; তবু 
পাবে না কর্ণ মাতৃপ্রেম। 
অভিশাপ হলো দ্বিতীয় যদি নিজ গুরু পরশুরাম,
বলেন কেন আবার  
তুমি মৃত্যুঞ্জয় বীর যোদ্ধা কর্ণ।
ব্রাহ্মণ দিলে যবে মৃত্যু অভিশাপ
দানবীর কর্ণেরে,  
কম্পিত হৃদয়ে ছুটেন আপন গুরু দ্রুত পদে। 
কেন দিলে ওই ব্রাহ্মণে
পরশুরামশিষ্যে অভিশাপ?
একুশবার ক্ষত্রিয় নিধন করেছি এই আমি,
এইবার করি তবে পৃথিবী মানবশূন্য।
আপন মহিমায় মহীয়ান কর্ণ,
মিনতি জানায় জোড়হস্তে
এ যে ভারী অন্যায় গুরু! 
কেন ভুলে হয় এমন ভ্রম তোমার?
গুরু তুমিও যে দিয়েছো এমনি করেই  
এই জীবন ভ্রষ্টের অভিশাপ! 
বুকের রক্ত দিয়ে তাই, এ জীবন দান দিয়েই 
তবে হবে আমার পূর্ণ।
গুরু-শিষ্য স্তদ্ধ হৃদয় নিয়ে 
চোখে চোখ রাখে ...
ভাবে নাই যে মুক্তি এ অভিসম্পাতের!
তবে মৃত্যু হোক যদি তোমার,
তুমি মনে রেখো,
তুমিই পরশুরাম শিষ্য এক অবিনাশী বৎস! 
যে মৃত্যুতেই হবে মৃত্যুঞ্জয়ী কর্ণ। 

লাবণ্য কান্তা
ঢাকা, বাংলাদেশ