অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
টিটোন হোসেন-এর দু’টি কবিতা

মায়ার বাঁধন
দি আরো শতবার জন্মায়, 
আজন্মকাল ঋণী হয়ে যায়, 
নব নব রত নমস্য জননী পাদু’টো। 
সেই মাঘের সায়াহ্নে সিন্ধু সেঁচে মুক্ত পেলে,
সুহাস্য বদনে শতকষ্ট লুকালে লাজুক মুখে।
হে ধরিত্রী শতদলে বাঁধলে বারিবিন্দু নীরে
এসেছি মাত্র অমৃত মাতৃদুগ্ধ পানে।
নরম কাদা মাটি গড়লে মনের মতন করে, 
আঁধারে জ্বালালে বাতি নির্ঘুম নয়নে,
চোখের খাঁজ আঁকলে কালির অপূর্ব সাজে,
নত মস্তক জননী বারবার তোমা পায়ে।

লক্ষ যুদ্ধ সৈনিক পরাজিত মা 
আমিই তো এসেছি মাত্র যুদ্ধ জিতে,
দাও তোমার অমৃত সুধাময়ী জলখাবার, 
ক্ষুধার কান্না শুনে তুমিই তো বুকে নিলে।
যতবার শতপথ পদব্রজে মাখি
এ দেহ মা; মাটির গহীনে লুক্কায়িত রাখি
খুঁজে পেলে তুমি এক মাঘ শীত শেষে,
দানে দাঁড়ালো জয়িতা নির্বার কলঙ্ক ঘুচে।
মস্তকাস্পর্শে চুম্বি সে পদ- আজ শুধু খোঁজে, 
সৃষ্টিকর্তার আরশের পরশ যেথা মেলে,
এইতো এসেছি মাত্র লক্ষ সৈনিক পরাজিত করে। 

যতদানে দিয়েছো শতশত মাখা আদর 
আজন্মকাল ভুলে একবার শুধু জেগে
ভুলে যাই সেইদিন শুধু কোমল স্পর্শ রেখে 
মানিক কুড়িয়ে পাই কি কেউ?
পেলে তুমি সত্যি এক রত্ন আকর।
বন্দীত্ব ছাড়িয়ে ধুলিমাখা মুখে জননী
রৌদ্রস্নাত এক মাঘ শীতে শিয়রে বসে,
যদি আরো শতবার জন্মায় জননী-
তোমার মায়াময়ী কোল যেনো ফিরে পাই।

অক্ষম আক্রোশ
দিতেই তো সে চেয়েছিলো
তবু নিতে অক্ষম-
আক্রোশে আকৃষ্ট এ মন।
সময় গড়িয়ে তেজস্বী তনু, 
আনমনে ভাবতেছিনু- অজস্র অভিশাপ;
আপন আলয়ে বিষিয়ে বাঁচে মন,
দূরের পাখির মতো-
ক্ষণে ক্ষণে জড়িয়ে সে সামান্য আঁচল। 

চিন্তার বলিরেখা মুখোমুখি মাখি, 
মধুর এ সঙ্গে সব সাঙ্গ হয় যদি, 
তব অন্তর বর্ষণে-
বিষাক্ত ফেনা বারবার উথলিয়ো।
অক্ষম আবরণে আবৃত এ মন
উত্তপ্ত উনুনে মন রেখে ভাবি,
জলবিহীন সাগর সে যে মরুভূমি, 
প্রান্ত ধূসর শুধু চারপাশে বালি।

সমাপ্তি;আসবে কি কখনো? 
যে নয়ন বয়ে চলে বারী, 
সাগর শুকালেও ঠিক থেকে যায় তারি,
বিষম হেলায় ভুল করে ভুলে,
আবার সে ফিরে ফিরে আসে।
জগৎ বিছায়েছি এক কচুপাতা পরে, 
টলমল পানি কখন যেনো পড়ে, 
অক্ষম আক্রোশে আকৃষ্ট এ মন তবু না টলে।

টিটোন হোসেন 
প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা
ধামরাই সরকারি কলেজ, ঢাকা