বাংলার রং - আশিস চক্রবর্তী
বাংলার রং
সদ্য বৃষ্টি স্নাত ঘাসের ওপর বসে আছি,
বিকেলের আভা মুছে গিয়ে সন্ধ্যের সূচনায়,
দেখি অনন্ত মাঝি তার নৌকা ঠেলে
জল কেটে এগিয়ে যাচ্ছে , নদীর ওপর থেকেই
ও বললো , " ভালো আছো ভাই !"
একটা মাছ রাঙা ডুব দিতে গিয়েও
ডানা গুটিয়ে পাশের ডুমুরের ডালে গিয়ে বসল।
আমার এবার উত্তরের পালা,
হাত ঘাড় নেড়ে জবাব দিতেই ,
মাঝির হাতের গতি বাড়লো।
জলের শব্দ বাতাসে বয়েই চলেছে।
ধীরে ধীরে একটা বিন্দুর মতো
মিলিয়ে গেল অনন্ত মাঝির খোলা।
মাছ রাঙা এবার ডুব দিল,
দীর্ঘ অভ্যাসের ফল ঠোঁটে গুঁজে
হারিয়ে গেল ঝোঁপে কিংবা ঝাড়ে।
ঝুপ করে নামা আধারে,
আকাশের কোলে প্রথম তারার আলো ,
নদীর কপালে স্ফটিকের টিপ তুলে,
কেঁপে কেঁপে উঠছে।
নিশাচরেরা বুঝি এবারে জল খেতে আসে।
মেঠো ইঁদুরের মুখে বুনো ফসলের স্বাদ।
হিংস্র শৃগালের নিঃশব্দ পদ চারণে
নুইয়ে উঠলো বুঝি গুল্মের লতা।
এতক্ষনে চাঁদের আলো ধুয়ে দিচ্ছে
পৃথিবীর পিঠ।
বাদুড়ের পাখনার বিস্তারে ছেয়ে আছে যেন মেঘ।
সরীসৃপেরা ওৎ পেতে আছে।
বিশু গোয়ালার চা এর দোকানে
মিট মিটে আলোয় বাষ্পীভূত হচ্ছে জল।
ধোঁয়ার পাকদন্ডী ক্রমশ ঊর্ধমুখী।
কাঠের বেঞ্চে সারি সারি বসে ,
সুরুৎ সুরুৎ স্বরে উষ্ণ আমেজে ,
স্মৃতিতে ভর করবে কবেকার ,
ফেলে আসা অঘ্রানের ধান, তুষ সব।
কপাট তুলে মনসুর আলীর গড়িয়ে চলবে,
সেলাই মেশিন , কর্ম মুখর শব্দে
ভেসে যাবে লোকালয়।
এখুনি শ্লথ গতিতে শামুকেরা ছিড়ে খাবে,
শ্যাওলার দল।
শরীরে পাঁকের গন্ধ মুছে উড়ে যাবে বালিহাঁস।
শুকনো খড়ের নীড়ে , শেষ পাখা ঝাপটে
শুয়ে পড়বে বাস্তু ঘুঘু।
হয়তো খানিক বাদে পাড়ার যুবকেরা
স্নিগ্ধ ঘাসে আমারই মতো চেয়ে চেয়ে
গিলে নেবে প্রকৃতির রং।
আর বাঁকানো ঠোঁটে উগড়ে দেবে
যুগের সঞ্চিত একরাশ গড়ল।
তারপর ,সিগারেটের পরিত্যক্ত খোলায় ,
আশ্রয় নেবে পতঙ্গকূল।
ঘরে ঘরে তুলসিমঞ্চে প্রস্ফুটিত প্রদীপের আলো,
আজানের পবিত্র স্বর আমন্ত্রণ করে রাত।
বাংলা ঘুমোয় দুচোখে স্বপ্ন ধরে।
আশিস চক্রবর্তী
পশ্চিমবঙ্গ
-
ছড়া ও কবিতা
-
28-10-2020
-
-