সোনা - চিরঞ্জীব নাদ
সোনা ছোট্ট এগারো বছরের শিশু, আর
পরমপিতা তাঁকে ডেকে নিলো নিজ কোলে।
এ কেমন বিচার…………..?
সে দেখেনি এই পৃথিবী,
বোঝেনি সুখ – দুঃখ, আশা – আকাঙ্খা।।
সোনা ছোট্ট এগারো বছরের শিশু,
স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়তো।
এখানে ওখানে খেলে বেড়াতো,
করতো কত দুষ্টামি
মা কতো বকত তারে, স্নেহ করতো তারে।।
সোনা ছোট্ট এগারো বছরের শিশু,
যে দেখেনি তার যৌবন, বার্ধক্য।
আজ সে সময় কাল পেরিয়ে
মৃত্যুকে সঙ্গ করে
চলে গেলো অসীমে।।
কেই বা তারে রাখবে মনে।
বন্ধুরা হয়তো দশটা দিন
পাড়ার লোক হয়তো মাস দুই
আত্মীয়রা বছর খানেক
আর আমি, তার মা……………….?
মা তারে দশ মাস রেখেছে নিজ জঠরে
দিয়েছে নিজের অন্ন, রক্ত, নিশ্বাস।
আমি এগারো বছর ধরে
নিজের রক্তজল করা উপার্জনে
করেছি তারে সযত্নে পালন।।
আমরা……
আমরা কি করে ভুলবো তারে
একটি মাত্র সন্তান সে।
কত স্বপ্ন তাকে লয়ে,
কত আশা আকাঙ্খা,
সোনা আমার বড় হবে
সোনা ডাক্তার বা উকিল হবে
আরও যে কত্ত কি।।
আজ সব স্বপ্ন চুরমার
সোনা আজ সব স্বপ্ন, মায়া,
আশা- আকাঙ্খা ত্যাগ করে
যৌবন- বার্ধক্য ত্যাগ করে
নিস্তব্ধতায় শুয়ে আছে চিতায়।।
সোনা আর ডাকবে না বাবা, মা বলে।
যাবে না পড়তে স্কুলে
খেলতে যাবে না পাড়ায় পাড়ায়
করবে না কোনো দুষ্টামি
খাবেনা মায়ের লাঠির বাড়ি।।
মুখে তার একমুখ চাল
চোখে তুলসী পাতা
কপালে চন্দনের ফোঁটা
পায়ে রক্তিম আলতা
যেন কোন রাজপুতুর
রাজ্যাভিষেকের পর শুয়ে আছে
অঘোর নিদ্রায়।।
মা তাঁর অশ্রুহীন, বাক্যহীন,
মা সোনাকে কোলে নিয়ে
মাথায় হাত বুলিয়ে চলেছে
জানিনা কেন মায়ের এত অভিমান
যে অভিমানে খান খান
হয়ে চলেছে সকল বেদনা।।
আমি নাকি পুরুষ মানুষ,
আমার নাকি কাঁদতে নেই।
কেন কাঁদতে নেই, কেন….?
কেন বুকের ভেতর এত ব্যথা
এতো অসহ্য বেদনা, জ্বালা যন্ত্রনা,
সব চুলোয় যাক, শুধু কাঁদতে চাই
কাঁদতে…………..
আত্মীয় পরিজন অশ্রুধারায় জানাচ্ছে
তারে চিরতরে শেষ বিদায়।
সোনা ছোট্ট এগারো বছরের শিশু
নির্বাক, বধির হয়ে পড়ে আছে চিতায়।
সোনা ছোট্ট এগারো বছরের শিশু।।
চিরঞ্জীব নাদ
শিক্ষক ও গবেষক
শিলিগুড়ি, ভারতবর্ষ
-
ছড়া ও কবিতা
-
31-10-2020
-
-