অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
জাহ্নবী জাইমা’র দু’টি কবিতা

নন্দন বার্তা
তুমি নির্বিকার থেকো
যেভাবে উদাস থাকে প্রশাসন
মানুষ কাতরায়..
আমি তোমার জলজ ভূমিতে
বুনে দেব খরার ফসল।

গাছের বাকল পরে নদীচরে জ্যোৎস্নারাতে
বালির রূপোলি কি চেনে
লুকোনো প্রেমের সব সবজি ডাল ভাতে
চন্দন বর্ণের মতো তোমাকে মেখেছি
নদীজলে ডালপালা ছড়িয়ে কতদিন।

কত বছর বেঁচে আছি শুধু তোমার জন্যে
অন্ধকারে অগ্নুৎপাতে পাথরে পাতালে
খনিগর্ভে মেমরিতে, মরা গাছের তল দিয়ে
দেয়ালের সূক্ষ্ম রন্ধে কপোতপালিতে
তুমি অত সব কিছুই জানো না।

তুমি যেমন আছ তেমনই থাক
আমি তোমাকে একটু একটু করে
শুষে নেব অগস্ত্যের মতো...
তুমি যেন শরীর পালটে ফেল না।
হাতে কলমে না হোক বাতাসের চিঠিতে
চোখের ওপার থেকে এই আমার নন্দনবার্তা।

বোধ
হংকার ভেঙে যায় অনুপরমাণু
ঘুমঘরে আসে উড়ে ঝিঝিদের ঝাঁক
লোভী নখ হাত ক্রমে হয়ে আসে স্থানু
বিধাতা সকলেই দুধেভাতে থাক।

নিখুঁত হিসেব কষা অশ্বত্থের পাতা
নিরুদ্দেশ মৌসুমী পাখির ডানায়
স্রোতে ভেসে যায় আদিম হিংস্রতা
শুয়ে থাকি উর্ধমুখ ঘাস গালিচায়।

অর্থহীন হয়ে যায় আড়ম্বর শুধু
পাহারাদারের দায় কংক্রিটের বনে
জেগে ওঠে বুকে ঘর মরুভূমি ধূঁ-ধূঁ
ক্রমিক খনন চলে নিজেকে গোপনে।

ঘুনোপোকা কুঁড়েখায় মুখোশের মুখ
প্রসাধন ভেদ করে উঁকি দেয় ক্ষত,
রক্ত জলে বাড়ে অচেনা অসুখ
বিষাদ জড়িয়ে ধরে কুয়াশার মতো।
নিঃসঙ্গতা ব্যুহ এই গার্হস্থ্য পেরিয়ে
কোন বৃক্ষে কত যুগ ধ্যানী হলে তবে
প্রশান্ত হাতে কিছু সার্থকতা নিয়ে
তার ছায়া এসে সামনে দাঁড়াবে?

জাহ্নবী জাইমা। ঢাকা