অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
শীতল চট্টোপাধ্যায়-এর দু’টি কবিতা

পুরনো বাড়ি
ভীষণ পুরনো বাড়ি একটা
ভয় মাখা সারা গা,
ওদিকে গেলেই যেন অজান্তে
কেঁপে ওঠে দু'টো পা৷
কালো হয়ে গেছে বাড়িটার রঙ
শুকনো শ্যাওলা তাতে,
ওই বাড়ি এক স্বর্গ রাজ্য
ঝিঁঝিদের দিনে-রাতে৷
পায়রা,প্যাঁচা, চামচিকি আছে
আর আছে টিকটিকি,
বাড়ির বাইরে দিনের আলো
ভেতরে রাত্রি ঠিকই৷
মাকড়সা জালে জড়িয়ে যেন
বাড়িটাও গেছে মরে!
পাশাপাশি যত গাছেদের পাতা
বাড়িটায় পড়ে ঝরে৷
শুকনো পাতারা পায়চারি করে
বাড়িটার চারপাশে,
বুনো কামিনীর গন্ধ এসে
বাড়িটাকে ভালোবাসে৷
রোদ,রাত্রি, বৃষ্টি, বাতাস
আসে যায় বাড়ি ছুঁয়ে,
মাঝরাতে চাঁদ কথা বলে ওই
বাড়িটার সাথে নুয়ে৷

আদিমতার সুখ
কটু আগুন আর
উদর পূর্তির নির্বিষ কিছু কাঁচা সামগ্রী থাকলে
পুড়িয়ে নিয়ে পাকস্থলিতে পাঠিয়ে,
আরো কিছুদিন বাঁচলেও বাঁচা যেত হয়তো!
আমদের আদিম পূর্বপুরুষদের কেউ বোধহয়
আজকের মত অজানা রোগে আক্রান্ত হয়নি-
রোদ, বৃষ্টি, ঝড়কে নির্ভেজাল দৈহিক গঠনের আনুকূল্যে সইতে-সইতে৷
তাদের সেই অভাবের পৃথিবীতে যতটা সুখী ছিল তারা,
আজকের সীমাহীন স্বচ্ছন্দ, ভোগ, উপভোগ আর
অসীম স্বাদের রসনা তৃপ্তির পিছনে ছুটে
দেহজোর কমা অধিকাংশ মানুষই
ক্লান্ত হয়ে পড়ে যাচ্ছে- 
স্বাভাবিক জীবন পথের সম্পূর্নে 
না-পৌঁছুতে পেরেই৷
কল্পনায় খুঁজছে আদিমতার সুখ৷

শীতল চট্টোপাধ্যায়
উত্তর ২৪পরগণা
ভারতবর্ষ