অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
লুৎফুন নাহারের কবিতা

একা 
কাকীত্বের কোন ভাষা হয়না
একাকীত্বে থাকে এক সাগর শীতলতা।

একাকীত্বের কোন প্রকাশ থাকেনা
থাকে শুধু অন্তরের বন্দরে জাহাজহীন শূন্যতা।

হাজার মানুষের ঢলেও কেউ কেউ একা হয়ে যায় হঠাৎ!
আটকা পড়ে যায় নিজস্ব ক্ষতে,
সঁপে দেয় নিজেকে নিজেরই ব্যথার হাতে।

একা উড়ে চলা পাখিটিরও নীড় থাকে,
বলবার মতো সঙ্গী থাকে
বসবার মতো ডাল থাকে।

কেবল কোন কোন মানুষেরই ঘর থেকেও ঘর থাকেনা
সঙ্গী থেকেও রপ্ত করতে হয় একা পথ চলা
বলবার মতোও মূলত কেউ থাকেনা।

বাধ্য হয়েই মানুষ বেঁচে থাকে মৃত্যুর মতো একা।

আদতে অগণিত বন্ধু বেষ্টিত ভুবনেও
কেউ কেউ শীতল চাঁদটার মতোই ভীষণ একা!

বিশ্বাসঘাতক
চোখের জলে কারো ছায়া পড়ে না
কারো দেয়া ব্যথাও ধুয়ে যায় না
বরং সিক্ত হৃদয়ের তপ্ত লাভা’র
ক্ষরণ বাড়ায় ধীরে ধীরে প্রতিদিন।

যে হয় অন্তরের ক্ষতের কারণ,
শাস্ত্রে তাকে বন্ধু ভাবা বারণ।
মাথায় আঘাত করলে কেউ
গলাগলি’র ভাগিদার কি সেও?

অন্তরে হানলে কেউ নিঠুর আঘাত
বন্ধু তো নয়ই, বরং সে বিশ্বাসঘাতক।

আমরাই আমাদের শত্রু
মরা, আমাদেরকে ধ্বংস করি প্রতিদিন অল্প-অল্প করে 
অন্যে জীবনের গল্প পড়ে পড়ে। নিজ জীবনটা হয় শূন্য থাকে,
না হয় ভুলে ভরা লাইনগুলোতে কাটাকুটি, বিচ্ছিরি সব দাগ
নিদ্রা রেখে চোখ থেকে খুলে, নিয়ম করে রাত্তিরে থাকি সজাগ।

‘এইম’ দেখতে-দেখতে আমাদের জ্যোতি ফুরিয়ে যায় মাঝপথে
লক্ষ্যে আর পৌঁছানো হয় না। আঁধার আমাদের আঁকড়ে ধরে
পথ হাতরে-হাতরে, পথেই পড়ে থাকি লক্ষ পথিকের পদতলে;
আমরা নিছক বোকার দল; সব ছলনাকে সালাম করি সত্যের আদলে। 

আমাদের পেটে ক্ষুধা নিয়ে করি অন্যের মেহমানদারি 
আত্মযুদ্ধে শহীদ হয়ে, করি আত্মসম্মানের বাড়াবাড়ি।
আমরাই আমাদের প্রতিপক্ষ, আমাদেরই রিপু ধ্বংস করে আমাদের-
ধীরে-ধীরে ধোঁয়া হয়ে ঝাপসা করে তোলে বিবেকের আয়না সকলের।

একদিন মুক্তির মিছিলে, মানুষ হাঁটবে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে, ক্রন্দন ভুলে। 
মানুষের মুক্তি মিলবে নিশ্চয়,  সব রকম ইগো আর রিপু থেকে অচিরে। 

লুৎফুন নাহার। ইংল্যান্ড