অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
চোরের বিবর্তন - দেওয়ান সেলিম চৌধূরী

চোর অনেক পুরনো শব্দ তাতে নেই আর্ট
পড়নে ছেড়া লুঙ্গি,গায়ে নেই শার্ট 
শরীরে অনেক  ক্ষত,মোছা নাহি যায় 
সামান্য চুরির দায়ে এত শাস্তি পায়।
অসাধু চোরকে মারে, আরও মারে পুলিশ, 
সবাই চোরকে দোষে, গ্রামের সালিশ। 
দল বেধে দিয়ে যায় হাজতে আনি
কেহই চায়না জানিতে দুঃখের কাহিনী। 
হাজতে বসিয়া চোর মনে মনে ভাবে
বাচ্চা মোর কাদিতেছিল খাদ্যের অভাবে।
বড় ছেলে বিকালঙ্গ, ছোটটা  অবুঝ 
কে দেবে খাদ্য তাদের, কে নেবে খোজ?
অজস্র চিন্তা নিয়ে নিদ্রা নাহি আসে।
বুকের ব্যাথার লাগি থেমে থেমে কাশে।
অনেক প্রতিক্ষার পরে সময় এলো শেষে
কোর্টে হাজির হলো মৃয়মান বেশে।
এসে দেখে মস্ত চোর তার  চারি পাশে,
কথা বলে ইংরেজিতে, ঘুষ পেলে হাসে। 
বিচারকের চোখ ছিল মুষ্টিবদ্ধ হাতের পানে
চোর বুঝিলো না কিছু,কি তার মানে 
দিনের প্রতীক্ষা শেষে, বুঝে গেল অবশেষে। 
অশিক্ষিত গরিবদের চুরি নাহি সাজে 
অভিমান বুকে নিয়ে কোমড়ে পড়িল দড়ি 
মনে মনে স্থির হলো ছেড়ে দেবে চুরি। 
ক্লান্ত পায়ে ধীরে ধীরে জেল পানে চলে
অভিমান বুকে নিয়ে মনে মনে বলে 
"তারাই করুক চুরি আছে যার ভূরি ভূরি 
শিক্ষা দীক্ষায় যাদের নেই কোন জুড়ি। "
সেই হতে শুরু হল প্রতিযোগীর- হার 
যার যা বিদ্যা আছে, করে হাতিয়ার, 
লুটিছে সর্বস্ব তারা, লুটার নাহি শেষ 
সবাই পড়িছে আবার শুভ্রতার বেশ। 
চেহারায় নূরানী আছে, আছে বিদ্যার বাহার 
তাদেরে সন্দেহ করে, এত্ত সাধ্য কার? 
দিনে দিনে গড়ে তোলে সম্পদের পাহাড় 
চোর চোর শব্দটুকু শুনে নাকো আর।
আমাদের সমাজে অশিক্ষিত চোরের অহেতুক মরণ 
পথ করে দেয়, পুষ্পমাল্য দিয়ে নতুনেরে করিতে বরণ।

দেওয়ান সেলিম চৌধূরী। অটোয়া